kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

আশাশুনিতে বাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি, উপকূলে আতঙ্ক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২১ ২১:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশাশুনিতে বাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি, উপকূলে আতঙ্ক

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আতঙ্কে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারে ইতোমধ্যে প্রতাপনগরের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদের রিং বাঁধের মাথা অব্দি পানি উঠেছে। পানির চাপ দেখে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। দুপুরে কপোতাক্ষের জোয়ারের পানি উপজেলার সুভদ্রাকাটি ও কুড়িকাহনিয়া গ্রামে বাঁধ ছাপিয়ে প্রবেশ করলেও কোনো ক্ষতি হয়নি।

বুধবারের ভরা পূর্ণিমা ও ইয়াস এর প্রকোপে নদীর জোয়ার আরো বৃদ্ধি পাবে। তাহলে উপকূলীয় অঞ্চলের নড়বড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের পানি আটকানো যাবে কি না এ প্রশ্নে মানুষের মুখে মুখে। স্থানীয় বানভাসীদের ক্ষোভ ঘুরে ফিরে সেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি সময় থাকতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন যদি বাঁধগুলি মেরামত করে আরো উঁচু করে নির্মাণ করতো তাহলে বারবর আমাদের এ ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িকাহনিয়া গ্রামের গড়ইমহল খালের মাথা থেকে শ্রীপুর গ্রামের দৃষ্টিনন্দন গ্রাম পর্যন্ত প্রায় কপোতাক্ষ নদের প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ, সুভদ্রাকাটী গ্রামের সোহরাব সানার বাড়ি থেকে জনাব সরদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার, রুইয়ারবিলে বাঁধে কাজ চললেও ৭০০ ফুট রাস্তা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, চাকলা থেকে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া হরিশখালী, বন্যতলা ও মাদারবেড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও রাব্বি হাসান এ প্রতিবেদককে জানান, ঘূর্ণিঝড় যশের কারণে নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাশুনির প্রতাপনগরের কুড়িকাহনিয়া ও সুভদ্রাকাটি গ্রামের বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে পানি ঢুকেছে। সেখানে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ ছাড়া আশাশুনি সদরের মানিকখালী ব্রিজের নীচে ছাপানোর সম্ভবনা থাকায় আমরা কাজ করছি। আমরা নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের সাহায্য নিয়ে অতিরিক্ত জনবল লাগিয়ে বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে, প্রলয়ঙ্করী আম্ফানে বিধ্বস্ত প্রতাপনগরের ৩নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ ইব্রাহিম গাজী জানান, শ্রীপুর গ্রামের হাসেম গাজী, ইয়াকুব গাজী, আমিরোন, সুখদ্দী, প্রতিবন্ধী রওসনআরাসহ প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের বসত ভিটা হারিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে বিগত এক বছর হলো। আবার আম্ফানের পর নতুন ওয়াপদা উঠে নুতন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ঋষিপল্লীর সুকুমার দাশ, তৃপ্তি দাশসহ তাদের ১২টি পরিবার।

এ ছাড়া কাশেম মোড়ল,নফর গাজীসহ আরো ৭টি পরিবার এখনো সেই চরেই বসবাস করছেন। বসত ভিটা হারিয়ে নাকনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে উঠেছে এই গ্রামের আরো প্রায় ৪টি পরিবার।

৯নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ আব্দুল মাজেদ জানান, নাকনা (পূর্ব) চরে ওয়াপদার গাঁ ঘেঁষে এখনো প্রায় ৪০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।



সাতদিনের সেরা