kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

আম্ফানের ঘা শুকানোর আগেই আসছে 'ইয়াস'

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব‌রিশাল   

২৫ মে, ২০২১ ১৬:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আম্ফানের ঘা শুকানোর আগেই আসছে 'ইয়াস'

ফাইল ছবি।

আম্ফানের দগদগে স্মৃতি এখনো টাটকা। তার মধ্যেই ঠিক এক বছরের মাথায় ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। সেদিনের আতঙ্ক ফিরিয়ে আনল ‌সিডর, আয়লা, ফণী, বুলবুল, আম্ফানের মতোই ধেয়ে আসা ‘অতিথি’ ইয়াস। সেই সঙ্গে দ‌ক্ষিণ উপকূলে ফিরেছে বিপর্যয়ের আতঙ্কও। 'ইয়াস’-এর আতঙ্কে আছেন সুন্দরবনের তী‌রের রু‌হিতা গ্রা‌মের বা‌সিন্দারা। ব‌ঙ্গোপসাগরের তী‌রে পাথরঘাটার এই গ্রা‌মের জা‌কির মু‌ন্সি, ইব্রা‌হিম আর ইউসুফরা আছেন জলোচ্ছ্বাস আত‌ঙ্কে।

মু‌ঠো‌ফো‌নে কথা হয় রু‌হিতা গ্রা‌মের জা‌কির মু‌ন্সির স‌ঙ্গে। তি‌নি আম্ফা‌নের স্মৃ‌তি হাত‌ড়ে ব‌লেন, প্রতিদিনের চেনা ছবিটা হঠাৎই বদলে গিয়েছিল সেদিন। গত বছরের ২১ মে, প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ে চেনা ব‌ঙ্গোপসাগরটার চেহারা হয়েছিল ভয়ানক। তখন উপ‌জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উপকূলের, বি‌শেষ ক‌রে রু‌হিতা গ্রা‌মের নারী-পুরুষ আর শিশুরা আশ্রয় নিয়েছিলেন সাই‌ক্লোন শেল্টারে।

প‌রিবা‌রের স‌ঙ্গে সে‌দিন জা‌কির মু‌ন্সিও সেখান থেকেই আম্ফানের তাণ্ডব দেখে শিউরে উঠেছিলেন। সিড‌রের চে‌য়ে কম গ‌তির ঝড় হ‌লেও পা‌নির প্রবাহ ছিল প্রচণ্ড। আম্পানের সেই ক্ষত ধীরে ধীরে কাটিয়ে জা‌কি‌রের ম‌তো চেনা ছন্দে ফিরছিলেন সকলেই। কিন্তু সেদিনের আতঙ্ক ফিরিয়ে আনল আম্ফানের মতোই ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস'।

সেদিনের কথা এখনো ভোলেননি রু‌হিতা গ্রা‌মের বাসিন্দা, সত্তর ছুঁইছুঁই আবুল হো‌সেন। স্মৃতির সুতোয় টান দিয়ে তিনি বললেন, ‘সিডরের পর আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড় দেখিনি। এর আগে‌ আইলা, ফণী, বুলবুল আঘাত হে‌নে‌ছিল। তবে আম্পানের তাণ্ডব সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল।’

রু‌হিতা গ্রা‌মের আরেক বা‌সিন্দা ইব্রাহীম খ‌লিল। তি‌নি স্বগতোক্তির সুরেই বলছেন, ‘প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় এখন রুটিন। সাগরতী‌রের রু‌হিতা গ্রা‌মের বাসিন্দারাও ঝড়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। এবার ইয়াস এলেও আমরা আবার বেঁচে উঠব।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, মাছ ধরা ছোট তিন‌টি ট্রলার মঙ্গলবার সকা‌লে নদী‌তে ডু‌বে‌ছে। সাগরতী‌রের অন্তত আটটি দোকান ক্ষ‌তিগ্রস্ত হ‌য়ে‌ছে। 

মৎস্যজীবী ইউসুফ হো‌সেন বলেন, আম্ফানের প্রবল ঝড়ে ঘরের ভেতরে হু হু করে লবণ-পা‌নি ঢুকছিল। চোখের সামনে ঘরবাড়ি এবং গাছপালা ধ্বংস হতে দেখেছি। সপরিবারে স্কু‌লের এক‌টি সাই‌ক্লোন শেল্টা‌রে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেদিন সারা রাত দুই চোখের পাতা এক করতে পারিনি। আবার ঝড় আসছে শুনছি। এবার কী হবে কে জানে।'

পাথরঘাটা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলছেন, ‘আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য প্রাণহানি ঠেকানো। এবার প্রতিটি গ্রামে স্বেচ্ছা‌সেবক‌দের সমন্বয়ে কমিটি ক‌রে দেওয়া হচ্ছে।'

সাব‌রিনা সুলতানা আরো ব‌লেন, শুকনো খাবারের বন্দোবস্ত রাখা হচ্ছে। ঝড় হলে জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা টিম প্রস্তুত রাখা হ‌চ্ছে। গাছ ভেঙে পড়লে সেগুলো কেটে দ্রুত সরিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম প‌রিচালনার জন্য ফায়ার সা‌র্ভিস‌কে প্রস্তুত থাক‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে। বিপর্যয় মোকাবেলা করতে প্রশাসন পুরোদস্তুর তৈরি র‌য়ে‌ছে।



সাতদিনের সেরা