kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে চিড়ে কোটার ধুম

নাটোর প্রতিনিধি    

২৩ মে, ২০২১ ১৭:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে চিড়ে কোটার ধুম

চলছে মধুমাস। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার আনাচে-কানাচে তাই পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে মৌ মৌ করছে বাগান এলাকা। ফলে ভরা মধুমাসে আম পাকার এমন মিষ্টি গন্ধে নলডাঙ্গার গ্রামগঞ্জে চলছে চিড়ে কোটার ধুম। চারিদিকে এক আনন্দঘন ব্যাস্ততা। প্রতিটি বাড়িতে আম পাকাকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে বাঙালি সংস্কৃতি। গৃহস্থ বাড়ি থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ি পর্যন্ত সবখানে এখন আম আর চিড়ে মাখা ষোলআনা বাঙালি পরিবেশ। আসবে মেয়ে জামাই কিংবা আসবে আত্মীয়স্বজন। আম আর চিড়ে পৌঁছে যাবে দূর-দূরান্তে কুটুম বাড়িতে।

আম পাকার এমন আয়োজনকে সামনে রেখে নলডাঙ্গার চেঁউখালি ঝোপদুয়ার গ্রামের কালি মন্দিরে সামনে চিড়ে কোটার মিল বসিয়েছেন নাটোর সিংড়া পৌরসভার বাচ্চু মিয়া। এসএসসি পাস ছেলে আর এক সহযোগীকে নিয়ে সকাল থেকে সাঁঝ অবধি চলছে চিড়ে কোটার কর্মযজ্ঞ। 

বাচ্চু মিয়া জানান, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২৫ বছর যাবত তিনি চিড়ে কোটার ব্যবসা করছেন। আম পাকার এমন সময়ে প্রতি বছরই চিড়া কোটা তার এক নেশায় পরিণত হয়েছে। এমন মহাব্যস্ততা দেখে নলডাঙ্গা শহীদ নজমুল হক সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ তোতা অনেকটা কাব্যিক ভাষায় বলেন, 'মধু মাসে আশেপাশে আমের মিষ্টি গন্ধ, চিড়ে কোটার ধুম চলেছে এ যে বাঙলা সাংস্কৃতির চিরচেনা এক ছন্দ। মেয়ে-জামাই আসবে বাড়ি চলছে তাই আয়োজন। বেয়াই বেয়ান তারাও আসবে। হবে আম চিড়াতে আপ্যায়ন'। মামুনুর রশীদ তোতা আরও বলেন, একটা সময় ছিল যখন নলডাঙ্গার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মা-বোনেরা ঢেঁকি দিয়ে চিড়ে কুটতেন। সেই চিড়ের যে স্বাদ ছিল, বর্তমানে মেশিনে কোটা চিড়ায় সেই স্বাদ আর পাওয়া যায় না। 

মেশিনে চিড়ে কোটার এমন দৃশ্য দেখে পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত প্রায় ঢেঁকি সংস্কৃতি। ঢেঁকির বিকল্প এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি। 



সাতদিনের সেরা