kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

পদ্মায় ‘ছোট পানচিল’

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২২ মে, ২০২১ ০৩:৫৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পদ্মায় ‘ছোট পানচিল’

ছবি : অনিক মাহমুদ ইমন

পাখিটির আকার ছোট। দেখতে খুব সুন্দর। এর বাংলা নাম ‘ছোট পানচিল’ (Littlt Tern)। রাজশাহীর পদ্মায় মার্চ থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত এদের আগমন ঘটে। এরা খুবই সাবধানী পাখি। মানুষের আনাগোনা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। মানুষ দেখলেই উড়ে পালায়। একটু ছোট শব্দেও এদের আতঙ্কের কমতি থাকে না। ফলে এদের ছবি তোলা বা কাছ থেকে দেখা একটু কষ্টকরই হয়ে ওঠে পাখিপ্রেমীদের। গত মাসে এই পরিযায়ী পাখির ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন শৌখিন আলোকচিত্রী অনিক মাহমুদ ইমন।

ইমন কালের কণ্ঠকে জানান, এই পাখির ছবি সংগ্রহের জন্য গত ১৩ এপ্রিল নৌকাযোগে তিনি রাজশাহীর পদ্মার চরে যান এবং খুব সতর্কভাবে ছবি তোলেন। এই ছোট পানচিলের ছবি তোলার সময় পাখি যেন বিরক্ত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয়। এ জন্য একদম পানিতে শুয়ে শুধু ক্যামেরাটা উঁচু করে ধরে ছবি তুলতে হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই জোড়ায় জোড়ায় ছোট পানচিল এসে হাজির হয় ক্যামেরার কিছু দূরে নদীর বুকে জেগে থাকা ছোট একটা চরে।

তিনি জানান, পাখিটির গায়ের রঙে রয়েছে সাদাকালোর মিশেল। ঠোঁট হলুদ। পা অনেকটা কমলা রঙের। পুরুষ পাখিগুলো পানিতে ছোঁ মেরে মাছ শিকার করে এবং পারে এসে স্ত্রী পাখিকে খাওয়ায়।

জোড়ায় জোড়ায় পাখিরা এই মাছ খাওয়ানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। এদের মধ্যে কেউ আবার আস্তে আস্তে পানিতে নেমে গোসল করতেও থাকে। এদের মাছ খাওয়ানো এবং গোসল করার দৃশ্যও খুবই সুন্দর।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সালেহ রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পানচিল প্রজাতির পাখি অনেকটাই কমে গেছে। প্রায় সারা দেশেই এটির দেখা মেলে। তবে এরা লোকালয়ে থাকতে পছন্দ করে না। এ কারণে চোখে পড়ে কম। এটি খুবই একটি সুন্দর ধরনের পাখি। এর কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। তার মধ্যে লিটিল টার্ন প্রজাতি অন্যতম। আমাদের পদ্মায় মার্চ থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত এই পাখির দেখা মেলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই পাখির দেখা মেলে। তবে এরা জলাশয় পছন্দ করে। জলাশয়েই এরা আবাস গড়ে। বছরের এই সময়টা পানচিল প্রজাতির পাখিদের প্রজননের সময়।’



সাতদিনের সেরা