kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

করোনা রোধে পাঁচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ টেকনাফে কঠোর লকডাউন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২১ ০১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা রোধে পাঁচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ টেকনাফে কঠোর লকডাউন

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাঁচটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২ দিন ও টেকনাফ উপজেলার সর্বাত্মক ১০ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। 

সম্প্রতি জেলার এসব এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার  (২১ মে) লকডাউনের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এদিন টেকনাফ উপজেলায় এবং ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদ্দৌজা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফের ২৪ নম্বর ও উখিয়ার ২, ৩, ৪ এবং ১৫ নম্বর ক্যাম্পে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসা সেবা, ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. তোহা জানান, গত শুক্রবার পর্যন্ত ৪১ হাজার ৪৭৭ জন রোহিঙ্গার নমুনা পরীক্ষায় ৯১৩ জন রোহিঙ্গার দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ১৬৫ জন রোহিঙ্গার শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউনের বিকল্প নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউন ঘোষিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে ক্যাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে লকডাউন বাস্তবায়নে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কঠোর অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পের অভ্যন্তরেও রোহিঙ্গাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ছাড়া বাহির থেকে কাউকে ক্যাম্প এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্প থেকে কেউ বের হওয়ার সুযোগ পায়নি।

লকডাউনের সিদ্ধান্তকে সঠিক ও যথাযথ বলে মন্তব্য করেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। টেকনাফের ২৪ নম্বর লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিবেচনায় সরকারের লকডাউনের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করছি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে উখিয়া ও টেকনাফের সবকটি ক্যাম্পে এ ধরনের লকডাউন ঘোষণা করলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয়রাও নিরাপদ থাকবে।

এদিকে লকডাউনের প্রথম দিনে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সর্বত্র কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, টেকনাফ একটি সীমান্ত শহর ও রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকা। ব্যবসায়িক দিক থেকেও এ শহর অনেক বেশি সমৃদ্ধ হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন শহর থেকে এখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষের আগমন ঘটছে। 

এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনের নমুনা পরীক্ষায় টেকনাফে করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত টেকনাফ উপজেলার সর্বাত্মক ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে টেকনাফে এ ধরনের পরীক্ষামূলক কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ভালো ফল পাওয়া গেলে এ ধরনের লকডাউন পরবর্তীতে অন্যান্য উপজেলায় ঘোষণা হতে পারে।



সাতদিনের সেরা