kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

শিশু মুরছালিনকে হত্যা করে চাচাতো ভাই, লাশ গুম করেন দাদা!

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০২১ ২০:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু মুরছালিনকে হত্যা করে চাচাতো ভাই, লাশ গুম করেন দাদা!

দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইকে চর মারায় ছয় বছর বয়সী চাচাতো ভাই মুরছালিন মন্ডলকে হত্যা করে নবম শ্রেণির ছাত্র (১৫)। হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রাখে সে। পরবর্তীতে ওই মরদেহ বাড়ির অদূরের পাটক্ষেতে রেখে আসেন তার দাদা মো. হাবিবুর রহমান (৬২)। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুধাংশ শেখর রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় শিশু মুরছালিনকে নির্মম ভাবে হত্যা ও মরদেহ গুম করার ঘটনার স্বাকারোক্তিমূলক জবানবান্দি দিয়েছের তারা।

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, গত ১৯ মে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের সাজুরিয়া গ্রামের পাক্ষেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর সারের বস্তায় পাওয়া যায় স্থানীয় নবাব মন্ডলের ছেলে মুরসালিন মন্ডলের (৬) মরদেহ। ওই ঘটনার পর তার শিশুটির বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরই থানা পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তকালেই তারা হত্যাকারী হিসেবে শিশু মুরছালিনের চাচাতো ভাই এবং তার দাদা মো. হাবিবুর রহমানকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তারা হত্যা ও লাশ গুম করার দায় স্বীকার করে।

আদালতকে মুরসালিনের চাচাতো ভাই (১৫) জানিয়েছে, গত ১৬ মে সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে দেখে মুরছালিন তাদের বাড়িতে এসে দেড় বছর বয়সী ছোট ভাই আরিয়ান এর সঙ্গে খেলা করছে। তখন সে মুখ মুছতে মুছতে বাড়ির বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়। ওই মুরছালিনও তার সঙ্গে বাইরে যায়। এমন সময় তার চাচা নবাব মাঠের জমি দেখে বাড়ি ফেরার পথে মুরছালিনকে নিয়ে যেতে চান। তবে মুরছালিন নিজ বাড়িতে যেতে রাজি না হওয়ায় চাচা একাই বাড়িতে চলে যান। তারপর মুরছালিন পুনরায় বাড়ির মধ্যে যায় এবং আরিয়ানের সঙ্গে খেলা শুরু করে। খেলার এক পর্যায়ে মুরছালিন চর মারে আরিয়ানকে। তা দেখে সেও মুরছালিনকে চর মারে। এতে মুরছালিন পাশে থাকা দেওয়ালের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারায়। তখন সে তারাতারি করে মুরছালিনকে পাশে থাকা হাফ পানি ভরা লাল রংয়ের প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে নিয়ে রাখে। পরে মুরছালিনকে পানি থেকে তুলে সারের সাদা বস্তার ভরে তা পুনরায় বালতির ভেতর রাখে। বালতিটি সে দাদার টয়লেটের পিছনে হাউজের উপরে বাঁশের চাটাইয়ের উপরে ছেড়া জাল দিয়ে ঢেকে রাখে।

দাদা মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, গত ১৯ মে ভোরে তার স্ত্রী কাঞ্চন মালা বাথরুমের সামনে গেলে গন্ধ পান। তখন বিষয়টি কাঞ্চনমালা তাকে জানায়। তিনি বাথরুমের পেছনে গিয়ে দেখেন বালতির মধ্যে একটি বস্তা এবং ওই বস্তার ভেতরে মুরছালিনের লাশ। তখন তিনি তার স্ত্রীর অগোচরে মুরছালিনের লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় বাড়ির উত্তর পাশে বছিরের পাটক্ষেতে নিয়ে ফেলে আসে এবং পরে বালতি ভেঙে তা পার্শ্ববর্তী মাহাতাব খানের পাট ক্ষেতের ভেতরে রেখে আসেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান জানান, ক্লুলেস মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছেন। আসা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা আদালতে চার্জশীট প্রদান করতে পারবেন।



সাতদিনের সেরা