kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

ধ্বংসের জন্য আনা রাবার বিনা পয়সায় দেয়া হলো পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি    

২১ মে, ২০২১ ১১:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধ্বংসের জন্য আনা রাবার বিনা পয়সায় দেয়া হলো পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভাগীয় শুল্ক গুদামে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষিত পণ্য ধ্বংস করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে শুরু থেকেই। এবার ধ্বংসের জন্য আনা রাবার হুট করে ‘বিনা পয়সায়’ নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা নিয়মের গ্যাঁড়াকল ও পরিবেশের দিক উল্লেখ করে রাবারগুলো বিনে পয়সায় দিয়ে দেয়া হয় বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে। যদিও এ নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের কোনো সদুত্তর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জেলার আখাউড়া স্থল শুল্ক বন্দরে প্রায় ৯০০ ধরনের পণ্য ধ্বংসের জন্য আনা হয়। বেলা ১১টায় ধ্বংস কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও ১২টার পর শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা পণ্যের তালিকা চেয়েও পাননি। এমনকি সংশ্লিষ্টরাও তালিকার সঙ্গে না মিলিয়েই পণ্য ধ্বংসের অনুমতি দিয়ে দেন। 

এ সময় জানানো হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া এসব পণ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভাগীয় গুদামে রাখা হয়। ৩৫৯টি জব্দের ঘটনায় মামলা হয় মাত্র ১৮টি। যে কারণে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, পণ্য নিলামে প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা সংক্রান্ত তেমন কোনো জটিলতা ছিলো না। সব মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য ধ্বংসের তালিকায় ছিলো বলে ধারণা পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কিছু বলেননি। পণ্যের মধ্যে ছিলো শাড়ি, কসমেটিকস. প্লাস্টিক সামগ্রী, কারেন্ট জাল, পটকা, বিড়ি, কয়েল, কার্পেট ইত্যাদি।

শাড়ি ধরা পড়লে সেগুলো নিয়ম অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কেন জমা দেয়া হয়নি, নিলাম দেয়ার মতো পণ্য থাকলেও সে প্রক্রিয়ায় কেন যাওয়া হয়নি ইত্যাদি প্রশ্ন গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে করা হলে কোনো সদুত্তর মেলেনি। পণ্য ধ্বংসের জন্য করা কমিটির সিদ্ধান্ত মতো সব কিছু হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য সাংবাদিকদের তখন বলা হয়।

এদিকে বুধবার সকালে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনে ট্রাক প্রবেশ করলে অনেকের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে পড়ে থাকা রাবারগুলো ওই ট্রাকে তোলা হয়। বিকেলে ট্রাকটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসে। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুদাম থেকেও আরেকটি ট্রাকে করে রাতে রাবার সরিয়ে নেয়া হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, মূলত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে রাবার পাইয়ে দিতে আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে রাবার মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, পরিবেশের ক্ষতি না করে এসব রাবার প্রক্রিয়াজাত করে এমন প্রতিষ্ঠানকে সেগুলো দিয়ে দেয়া হবে।   

গত বুধবার সকালে এ বিষয়ে কথা হলে ধ্বংস কার্যক্রমের কমিটিতে থাকা আখাউড়া উপজেলা সহকারী  কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, অন্য পণ্য মাটিতে পুঁতে ফেলার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাবার বিষয়ে আপত্তি তোলেন। এ সময় জানানো হয়, রিসাইকেল করে এমন প্রতিষ্ঠানকে এসব রাবার দিয়ে দেয়া হবে।
   
ওই দিন কথা হলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-কমিশনার মো. ফখরুল আমীন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, রাবারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। যে কারণে এর কোনো মূল্য হয় না। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা একটি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে এনে বিনামূল্যে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুদাম থেকে কীভাবে রাবার বের হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেননি। গুদামে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মোবাইল ফোনে বললে কী সমস্যা বলার পর তিনি বলেন, আমি এখন মিটিংয়ে আছি।



সাতদিনের সেরা