kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

সরকারি তেল বিক্রির ভিডিও ভাইরাল, আ. লীগ নেতার প্রশ্ন 'ভিডিও করল কে?'

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০২১ ১৯:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি তেল বিক্রির ভিডিও ভাইরাল, আ. লীগ নেতার প্রশ্ন 'ভিডিও করল কে?'

বরগুনার বেতাগীতে ন্যায্যমূল্যের টিসিবির পণ্য সাধারণ মানুষ ক্রয় করার আগেই এক আওয়ামী লীগ নেতা ক্ষমতার দাপটে ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দোকানে দোকানে বাজারের পাইকারি দামে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই নেতা বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান লিটন ওরফে লেটোয়ার মৃধা। 

জানা যায়, গত ১০ মে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিশা বাজারের টিসিবির পণ্য ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রিয় করেন সরদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল ইসলাম ও তাঁর দুই সহযোগী। বিক্রির শুরুতেই ওই আওয়ামী লীগ নেতা গিয়ে তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক পাঁচ লিটার ওজনের তৈলের বোতল নেওয়া শুরু করেন। জোর করে ৭৫ লিটার তেল ও ৩০ কেজি চিনিসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যায়। এরপর ওই সব পণ্য বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।

সম্প্রতি এঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

টিসিবির ডিলার 'সরদার এন্টারপ্রাইজ'-এর স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ওই নেতাকে বাধা দেই এবং তাঁকে বলি আপনি একটার বেশি পণ্য নিতে পারবেন না। পরে সে আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, 'আমার যা যা লাগবে না দিলে তোর লাইসেন্স বাতিল করে দেব। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা আমার আত্মীয়-স্বজন'। 

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ওই নেতা টিসিবির পণ্য নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আশ্রাফ আলী, জাফরসহ বেশ কয়েকজনের দোকানে বিক্রি করেন। অনেকেই পণ্য পায়নি।

অভিযুক্ত মতিউর রহমান লিটন (লেটোয়ার মৃধা) বলেন, 'কোনো সময় এয়া হইছে? আমি তো আমার যা লাগছে তা আনছি। আমি কোনো পণ্য বিক্রি করিনি'। ভিডিওর কথা বললে তিনি বলেন, 'ওই দিন বাজারে কোনো সাংবাদিক ছিল না তো ভিডিও করল কে? এসব মিথ্যা কথা'।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এ বি এম গোলাম কবির বলেন, লিটন আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক। তাঁর কাজ মানুষকে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করার ব্যবস্থা করা। যদি কোনো দলীয় লোক দুর্নীতি করে এবং তা প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, সে যে দলের নেতাই হোক না কেন, সরকারি কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা