kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

শরণখোলায় নির্বাচনী সহিংসতা : আ'লীগ নেতার হাত-পা ভাঙল প্রতিপক্ষরা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০২১ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরণখোলায় নির্বাচনী সহিংসতা : আ'লীগ নেতার হাত-পা ভাঙল প্রতিপক্ষরা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত তবুও বাগেরহাটের শরণখোলায় নির্বাচন ইস্যুতে একের পর এক ঘটছে সহিংস ঘটনা। নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকে শরণখোলার সাউথখালী, রায়েন্দা ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেম্বর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কমপক্ষে ১০টি সহিংস ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত হন শতাধিক লোক। মামলাও হয়েছে একাধিক।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৮ মে) পৃথক দুটি সংঘর্ষে ছয় জন আহত হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৪নম্বর পূর্ব খোন্তাকাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান ফরাজীকে (৪৫) লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা।

একইদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাউথখালী ইউনিয়নের ২নম্বর বকুলতলা ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন তিন নারীনহ আরো পাঁচজন। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৃথক এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) পাঠানো হয়েছে। অন্য চার জনকে ভর্তি করা হয়েছে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আহত মিজান ফরাজীর বড় ভাই আলমগীর ফরাজীর অভিযোগে জানা যায়, তার ভাই ৪নম্বর পূর্ব খোন্তাকাটা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী জাকির গাজীর কর্মী। এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ঘটনারদিন রাত ৮টার দিকে স্থানীয় আমতলী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তার ভাই। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান মেম্বর নাসির শরীফের কর্মী রাব্বি খানের নেতৃত্বে ১০-১২ সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মিজানের দুই হাত ও বাম পা ভেঙে দেয়। আশঙ্কাজন অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে, প্রতিপক্ষের নাসির মেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। নিজের চলতেই কষ্ট হয়। মারামারির বিষয়ে আমার জানা নেই।

অপরদিকে, সাউথখালী ইউনিয়নের ২নম্বর বকুলতলা ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর মো. দেলোয়ার হোসেন খলিল ও  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের তিন নারীসহ পাঁচ জন আহত হন। এরা হলেন খাদিজা বেগম (৪৫), আলাল ফরাজী (২৫), শাহিনুর বেগম (৪২), স্কুলছাত্রী মারুফা আক্তার (১৪) এবং স্কুলছাত্র মো. বাবু (১৫)। এদের মধ্যে খাদিজা গেমকে খুলনা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

ইউপি মেম্বর দেলোয়ার হোসেন খলিল অভিযোগ করে বলেন, আহতরা আমার কর্মী-সমর্থক। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদ খানের কর্মী সেকেন্দার ফরাজীর ছেলে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির শামীম ফরাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ লোক এই হামলা চালায়।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বলেন, শুনেছি জমিজমার দ্বন্দ্বের জেরে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। হামলাকারীরা কেউই আমার নির্বাচনী কর্মী-সমর্থক না।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) এস এম ফয়সাল আহমেদ জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর মিজান ফরাজী ও খাদিজা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুমেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, দুটি সংঘর্ষস্থলেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া পূর্বের সহিংস ঘটনাগুলোতে থানায় পাল্টাপাল্টি ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা