kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

করোনায় কাজ কম, ঋণের চাপে দিনমজুরের আত্মহত্যা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০২১ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় কাজ কম, ঋণের চাপে দিনমজুরের আত্মহত্যা

নিজের তেমন কোনো জমিজমা নিয়ে। অন্যের সামান্য জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। তাই পরিবারের ভরণ-পোষণ চালানোর জন্য দিনমজুরের কাজই আব্দুল মান্নান বাবুর (৪৫) প্রধান পেশা। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাজের ক্ষেত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ও দোকান থেকে বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছেন ওই দিনমজুর। এ অবস্থায় এনজিও কর্মী ও দোকান মালিকদের পাওনা পরিশোধের চাপে অস্থির হয়ে ওঠেন তিনি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে বুধবার দুপুরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আব্দুল মান্নান বাবু পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মেন্দা মহল্লার আব্দুর রহমানের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মান্নান বাবুর স্ত্রী ও এক ছেলেসহ তিন জনের সংসার। বেশ কিছুদিন আগে একমাত্র কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। অন্যের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে সামান্য কিছু জমি চাষাবাদ করে। তাই অন্যের বাড়িতে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালান তিনি। কিন্তু করোনার কারণে গত এক বছর ধরে কাজের সুযোগ কমে গেছে। কোনো ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাকে আর কাজে ডাকেন না। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক সংকটে এনজিও এবং বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পরিবারের সকলের খাবারের জোগান দেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই এনজিও কর্মী ও দোকান মালিকরা পাওনা পরিশোধের জন্য তাকে চাপ দিচ্ছেন। এর পর ঈদ উপলক্ষে মেয়ে জামাইকে নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এতে ধারদেনা করে কোনোমতে মেয়ে-জামাইকে সমাদর করেন।

এরপর বুধবার দুপুরে মেয়ে এবং জামাই তাদের নিজের বাড়িতে চলে যান। মেয়ে ও জামাইকে সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরেই আব্দুল মান্নান বাবু গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

নিহতের চাচাতো ভাই আইয়ুব আলী বলেন, আর্থিক সংকট ও পাওনাদারদের চাপে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন আব্দুল মান্নান। এই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



সাতদিনের সেরা