kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

ফেসবুকে এমপির হতাশা-ক্ষোভ

কষ্ট করে আনা উন্নয়নগুলো নষ্ট করছে নিম্নমানের ঠিকাদার ও অসাধু প্রকৌশলী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

১৯ মে, ২০২১ ১১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কষ্ট করে আনা উন্নয়নগুলো নষ্ট করছে নিম্নমানের ঠিকাদার ও অসাধু প্রকৌশলী

চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের নান্দাইলে বেশ কয়েকটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এসব সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেক আগেই। এতে টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার এসব চলমান উন্নয়নকাজ সরেজমিনে দেখতে যান ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। নিজ চোখে কাজের মান দেখে হতাশা ব্যক্ত করে নিজের ফেসবুক আইডিতে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি, দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দেন। সেই সঙ্গে সঠিক কাজ ছাড়া জামানত আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলীকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন এলাকায় থেকে চলমান সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দেকভাল করেন নিয়মিত। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বের হন এলাকার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী কুশল বিনিময়ও করেন। এ সময় শেরপুর ইউনিয়নে প্রবেশ করে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন। প্রথমে গোরস্তান বাজার, শেরপুর ফাজিল মাদরাসা থেকে লংগারপাড় হয়ে নান্দাইল দেওয়ানগঞ্জ ডিসি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১২০০ মিটার সড়কটির মান দেখে হতাশা ব্যক্ত করেন। এ সড়কের জন্য বরাদ্দত ৫৬ লাখ টাকা। বালুর বদলে মাটি, সড়কের পাশ ভেঙে যাওয়া ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার চোখে পড়ে। অন্যদিকে কাইল্যান থেকে চামটার প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের মান আরো খারাপ। যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। সেখানে ব্যবহার করা খোয়া নিম্নমানের দেখতে পান। তা ছাড়া সেখানেও বালুর বদলে অনেক জায়গায় মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় এমপিকে কাছে পেয়ে এলাকার লোকজন কাজের মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সেখান থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলীকে ফোন করে নিম্নমানের কাজ নিয়ে কথা বলেন। সঠিকভাবে কাজ না করায় ওই সব ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ ঠিকাদারের জামানত আটকানোর নির্দেশ দেন এবং কী কারণে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে তার কারণ জানতে চান। পরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মাণ করা ভূমিহীনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পরিদর্শন করেন। এখানেও ঘরের নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখতে পান। 

পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিসহ লিখেছেন, 'আমার অনেক কষ্টে আনা উন্নয়নগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে কিছু নিম্নমানের ঠিকাদার ও কিছু অসাধু প্রকৌশলী। এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যান। আমি কাউকে ছাড় দেব না, আমার কোনো পিছুটান নেই, আমি কোনো পারসেন্টেজ খাই না, আমি কারো দায়বদ্ধ নই, আমি শুধু দায়বদ্ধ জনগণের কাছে, রাস্তার নিম্নমানের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। জামানত আটকে দিয়ে রাস্তার কাজ পুনরায় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।'

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আল-আমীন সরকার বলেন, আমার দপ্তরে প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় সঠিকভাবে তদারকি করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া যেখানে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে সঠিকভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমপি মহোদয়কে আশ্বস্ত করেছি, সঠিক কাজ না করলে বিল দেব না।



সাতদিনের সেরা