kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

অস্ত্র মামলায় আসামি হতে পারেন বাবুল

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৯ মে, ২০২১ ০৩:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্ত্র মামলায় আসামি হতে পারেন বাবুল

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার এবার অস্ত্র মামলায় আসামি হতে পারেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা অস্ত্র আইনের মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে মিতু হত্যাকাণ্ডের ‘পরিকল্পনা ও টাকা লেনদেনের’ কথা বাবুল আক্তার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছেন। সে কারণে হত্যাকাণ্ড কিভাবে ঘটানো হবে সেই বিষয়েও পরিকল্পনাকারীর জানা ছিল। এই জানা থাকার কারণেই অস্ত্র মামলায় বাবুল আক্তার আসামি হতে পারেন।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, অস্ত্র মামলার অপরাধ প্রমাণ করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। এক. ‘নলেজ’ অর্থাৎ অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য জানা থাকা। দুই. ‘পজেশন’ বা দখলে থাকা। মিতু হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি ভোলা ও মনিরের দখলে ছিল। এ কারণে বাবুলের বিরুদ্ধে ‘পজেশন’ বা অস্ত্র দখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হবে না। তবে অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য জানার অভিযোগ আনা হবে।

অস্ত্র মামলায় বাবুল আক্তারকে আসামি করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের প্রধান উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় অভিযোগ আনা হবে কি না, তদন্তকারী কর্মকর্তা ভেবেচিন্তে সে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

একই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘অস্ত্র মামলায় আসামি করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় মিতুকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের ২২ দিন পর ২৭ জুন রাতে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে মিতু হত্যা মামলার আসামি ভোলার দেখানো অনুযায়ী মনির নামের একজনের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশে তৈরি রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিআইডির ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছিল, উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তলটি দিয়েই মিতুকে গুলি করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভোলার সঙ্গে মনিরকে আসামি করে ওই বছরের ২৮ জুলাই আদালতে অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন। একই বছরের ২২ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শাহেনূর।

মিতু হত্যাকাণ্ডের পর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন, সেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। আবার একই দিন ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় বাবুলকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা মো. মোশাররফ হোসেন। সেই মামলাও তদন্ত করছেন সন্তোষ চাকমা। মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত সোমবার কারাগারে পাঠানো হয় বাবুল আক্তারকে।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে আসামির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য যে আবেদন করা হয়, সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে আসামি খুনের দায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বীকার করেছেন। এ কারণে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতের খাসকামরায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন একসময়ের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। বাবুল আক্তারকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অস্ত্র মামলায় বাবুল আক্তারকে আসামি করার আইনি সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার বিচার চলাকালে যদি নতুন করে কোনো আসামিকে যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয় এবং সেই আবেদন আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়, তাহলে আদালত আসামিকে যুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আদালত চাইলে ওই মামলা নতুন করে পুনঃ তদন্তের জন্যও পাঠাতে পারেন। তবে পুরো বিষয় আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।’



সাতদিনের সেরা