kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

সেই আকলিমার পাশে দাঁড়ালেন পৌরসভা মেয়র, দিলেন চাকরি

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২১ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই আকলিমার পাশে দাঁড়ালেন পৌরসভা মেয়র, দিলেন চাকরি

২০২০ সালের ১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল 'শারীরিক প্রতিবন্ধী আকলিমা বাঁচতে চান, চান একটি চাকরি'। সেই আকুতিতে সাড়া দিয়ে অবশেষে আকলিমার পাশে দাঁড়ালেন জামালপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

সোমবার (১৭ মে) তাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে পৌরসভার কর আদায় শাখায় কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দিয়েছেন মেয়র। দিয়েছেন ভবিষ্যতে চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাসও। চাকরি পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শারীরিক প্রতিবন্ধী অদম্য নারী আকলিমা আক্তার (২৭)।

আকলিমাদের বাড়ি জামালপুর পৌরসভার কম্পপুর গ্রামে। স্থানীয় নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক আলতাফ হোসেনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে আকলিমা দ্বিতীয়। জন্মের ছয় মাস বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আকলিমার দুটি পা অবশ হয়ে যায়। সেই থেকে আর হাঁটতে পারেন না তিনি। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই সংবাদটিই ছিল তাকে নিয়ে প্রথম সংবাদ। সংবাদটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমেও বেশকিছু সংবাদ হয়েছে। কিন্তু চাকরির কোনো উপায় হচ্ছিল না।

কালের কণ্ঠকে আকলিমা তখন বলেছিলেন, হামাগুড়ি দিয়ে কষ্ট করে স্কুল-কলেজে গেছি। মাস্টার্স পর্যন্ত ভালো রেজাল্টও করছি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিছি। আমি কি পরিবারের বোঝা হয়েই থাকবো আজীবন। হামাগুড়ি দিয়ে অফিসের সিঁড়ি বেয়ে উঠেও চাকরি করতে পারব। আমাকে কেউ একটা চাকরি দেন। আমি বাঁচতে চাই। পরিবারের হাল ধরতে চাই।

অবশেষে আকলিমা চাকরি পেয়েছেন। মঙ্গলবার ছিল আকলিমার চাকরিতে যোগদানের পর দ্বিতীয় কর্মদিবস। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌরসভার নিচতলায় কর আদায় শাখায় গিয়ে দেখা যায়, আকলিমা ওই শাখার কম্পিউটারে কাজে ব্যস্ত।

কেমন লাগছে, জানতে চাইলে আকলিমা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, 'অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি। আমার চাকরির বয়সও প্রায় শেষের দিকে। তাই আমি খুব হতাশায় ভুগছিলাম। মেয়র স্যার আমাকে দেখা করতে বলেছিলেন। আর দেখা করতে এসেই যে চাকরি দিলেন। আমি যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি খুব খুশিও হইছি। এখানে আমাকে সবাই সহযোগিতা করছেন। সবার ব্যবহারে আমি খুব খুশি। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য মেয়র স্যারের প্রতি মন থেকে এমনকি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি'।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আকলিমা আমার মহল্লার মেয়ে। তাকে আমি আগে থেকেই চিনি। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও করিয়ে দিয়েছিলাম। ছোট থেকেই সে হামাগুড়ি দিয়ে কষ্ট করে পড়ালেখা করে মাস্টার্স পাস করেছে। কালের কণ্ঠসহ অনেক সংবাদ মাধ্যমে এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার পড়ালেখা ও অদম্য সংগ্রামী জীবন নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েছে। কিন্তু তার চাকরি জোটেনি। তাই ভাবলাম দেখি আমি কিছু করতে পারি কি-না।

মেয়র বলেন, আকলিমাকে সোমবার তার শিক্ষাসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে পৌরসভায় এসে আমার সাথে দেখা করতে বলেছিলাম। আমি ভাবছিলাম এলে নিচে গিয়ে তার কাগজপত্র নিয়ে রাখব। পরবর্তীতে জানাব। কিন্তু নিচে হুইলচেয়ার রেখে হামাগুড়ি দিয়ে দোতলায় সরাসরি আমার কক্ষে এসে হাজির হয় সে। এভাবে কষ্ট করে আসাটা আমার মনে দাগ কেটেছে। তাই আগের সিদ্ধান্ত বদল করি। তাকে পৌরসভার কর আদায় শাখায় কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তাৎক্ষণিক আমি আকলিমাকে কর আদায় শাখায় নিয়ে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিই।

মেয়র আরো বলেন, আপাতত আকলিমাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার যেহেতু চাকরিতে প্রবেশের বয়স আছে। তাই পরবর্তীতে তার চাকরিটা যাতে স্থায়ীকরণ হয়, এরজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।



সাতদিনের সেরা