kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

গরিব চাষির ১২০টি কলা গাছের চারা কেটে দিলেন বনবিট কর্মকর্তা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২১ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গরিব চাষির ১২০টি কলা গাছের চারা কেটে দিলেন বনবিট কর্মকর্তা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ জলদী আদর্শ গ্রামের গরিব এক চাষি ফজল কাদেরের ১২০টি কলা গাছের চারা কেটে দিয়েছেন জলদী অভয়ারণ্য বনবিট কর্মকর্তা কবির আহমদ ও গার্ড নেজাম উদ্দিন। মঙ্গলবার বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরীর কাছে দুই বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তফশিলভুক্ত পৈতৃক দখলীয় ৪২ বছরের দখলীয় খাস খতিয়ানের জায়গা অন্যায়ভাবে বন বিভাগের দাবি করে কলা গাছের চারা কেটে দিয়েছেন। পরিমাপ ছাড়া বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলা গাছের চারা নিধনের মতো এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় সর্বমহলে সমালোচনা চলছে। সবার মুখে মুখে প্রচার হচ্ছে বন কর্মকর্তারা কিভাবে গাছের চারা কেটে দিল? যাদের কাজ পরিত্যক্ত জায়গায়ও গাছ লাগানো।

চাষি ফজল কাদের বলেন, অন্যায়ভাবে বনবিট কর্মকর্তা ও গার্ড আমার ১২০টি কলা গাছের চারা কেটে দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে ৪/৫টি মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১২০টি কলা গাছের চারা রোপণ করেছিলাম। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।

স্থানীয় আর্দশ গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, বনবিট কর্মকর্তারা বনের রাজার মতো বনকে ব্যবহার করে নানা অনৈতিক পন্থায় টাকা কামাচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসান। আমার বিরুদ্ধেও একটি মিথ্যা মামলা করেছিলেন। পরে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করায় মামলাটি বনবিট কর্মকর্তা নিজ খরচে উঠিয়ে নেন। এভাবেই চলছে গরিবদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন।

বনবিট কর্মকর্তা কবির আহমদ বলেন, আমি কোনো আর্থিক সুবিধা আদায় করিনি। অনুমতি না নিয়ে বন বিভাগের জায়গায় কলা গাছের চারা রোপণ করায় কেটে দিয়েছি। বন বিভাগের জায়গা হলেও গাছের চারা কেটে দেওয়ার কোনো বিধান আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি মোবাইল কল কেটে দেন।

বন বিভাগের জলদি রেঞ্জের রেঞ্জার আনিছুজ্জামান শেখ বলেন, জায়গাটি বন বিভাগের নাকি খাস খতিয়ানভুক্ত কলা গাছের চারা কাটার আগে বিট কর্মকর্তার তা পরিমাপ করা উচিত ছিল। তাছাড়া বন বিভাগের হলেও গাছের চারাগুলো না কেটে বন বিভাগের দখলে নেওয়া আইনসিদ্ধ।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চাষি ফজল কাদেরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা