kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

বিজয়নগরে চুরির অভিযোগে শিশু-কিশোরকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২১ ১৯:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিজয়নগরে চুরির অভিযোগে শিশু-কিশোরকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোর ও এক শিশুকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক মাঠে নেমে পুলিশ তিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার মো. ইয়াকুব (১২) উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরাসানী গ্রামের মজনু ভূঁইয়ার ছেলে ও মোস্তাকিম একই ইউনিয়নের খিরাতলা গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মেরাসানী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মান্না, মিন্টু মিয়ার ছেলে মান্নান মিয়া, ধন মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

রবিবার ইয়াকুব ও মোস্তাকিমকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুইজনকে দড়ি দিয়ে বেধে নির্যাতন করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজনকে এ নির্যাতনে অংশ নিতে দেখা যায়।

ঘটনা সম্পর্কে নির্যাতিত শিশুটির খালাম্মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, পিতাহীন ইয়াকুব বিজয়নগর উপজেলার পশ্চিম মেরাসানী গ্রামে তার নানার বাড়িতে থাকে। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় চৌকিদার বাবু, রুবেল, মান্না নামে কয়েকজন রাতভর নির্যাতন করে। পরদিন সকালে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ইয়াকুবের মামা জাকির হোসেন সেখানে গিয়ে দেখেন মোস্তাকিম নামে আরেক কিশোরকেও নির্যাতন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইয়াকুবকে তারা উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরই মধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও পুলিশ অবগত হয়।

স্থানীয়রা জানান, তিন-চারদিন আগে মেরাসানী গ্রামের রুবেলের বোন জামাইয়ের বাড়িতে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার সন্দেহজনকভাবে কিশোর ইয়াকুব ও মোস্তাকিমকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি বাড়িতে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়। খবর পেয়ে আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে। রাতেই পুলিশ অভিযানে নামে। সোমবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ইয়াকুবের নানী আরিজা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই মামলার আসামি।

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই পুলিশ মাঠে নামে। শেষ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকিরদেকে গ্রেপ্তারেও চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা