kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমল লিচুর আড়তের কমিশন বাণিজ্য

নাটোর প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২১ ১৭:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমল লিচুর আড়তের কমিশন বাণিজ্য

অবশেষে ইজারা দেওয়া হলো নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর লিচু আড়ত। মোট ৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় মাহাবুব হোসেন নামে এক আড়ত মালিক। এখন থেকে লিচু বাগান মালিকদের আর কোনো কমিশনের টাকা দিতে হবে না। তবে যারা লিচু ক্রয় করবেন তাদেরকে প্লাস্টিকের ক্যারেট প্রতি ৫ টাকা, বড় ঝুঁড়ি ২০ টাকা এবং ছোট ঝুঁড়ি প্রতি ১০ টাকা ইজারা দিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার আবু রাসেল।

লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত নাটোরের গুরুদাসপুরে উৎপাদিত লিচু নিয়ে গত ২০ বছর ধরে বেড়গঙ্গারামপুর লিচু আড়ত পরিচালনা হয়ে আসছে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানার জায়গা ওপর আড়ত প্রতিষ্ঠিত এমন ধুয়া তুলার কারণে এতোদিন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিতে পারেনি। এই সুযোগে বেড়গঙ্গারামপুর লিচু আড়ত মালিক সমিতি কমিশনের নামে ১০০ লিচু বিক্রয়ের ওপর বাগান মালিকদের কাছ থেকে ৮ টাকা, পাইকারী ক্রেতাদের কাছ থেকে ৪ টাকা এবং খাচি প্রতি ৫ টাকা করে আদায় করে আসছিল। এতে করে কৃষকের লাভের টাকা পকেটে ঢুকতো আড়ত মালিকদের পকেটে।

গতকাল রবিবার পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা লিচু ব্যবসায়ী, আড়ৎদার ও লিচু বাগান মালিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রতি এক শ লিচুতে উচ্চহারে কমিশন আদায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে যৌক্তিকহারে টোল আদায়ের নির্দেশ দেন। নাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বেড়গঙ্গারামপুর লিচু আড়ত এলাকায় অনুসন্ধান করে খাস জায়গা বের করে হাট বাজার ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী সোমবার দুপুরে উন্মুক্ত ইজারা ঘোষণা করেন গুরুদাসপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার আবু রাসেল।

এ সময় আগামী দুই মাসের জন্য ৭ লাখ ৬০ টাকায় লিজ গ্রহণ করেন স্থানীয় মাহাবুব হোসেন নামের এক আড়ত মালিক। এ ছাড়া ২০ শতাংশ ভ্যাট ধরে মোট ৯ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। এতে করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে লিচু বাগান মালিকরা।

এর আগে দুপুরে নিরাপদ লিচু উৎপাদন, আহরণ এবং বিক্রয় নিয়ে ব্যবসায়ী, লিচু বাগান মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। সভায় লিচু ব্যবসায়ীরা আড়ত মালিকদের কমিশন বাণিজ্যে নিয়ে উপস্থাপন করেন। এরপর পুলিশ সুপার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কমিশন বাণিজ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন।



সাতদিনের সেরা