kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমণি টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তার খামখেয়ালি

নিরীহ মৌয়ালদের পারমিট আটকিয়ে রেখে লাখ টাকা জরিমানা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)    

১৭ মে, ২০২১ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরীহ মৌয়ালদের পারমিট আটকিয়ে রেখে লাখ টাকা জরিমানা

ফাইল ছবি

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমণি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের খামখেয়ালীর খেসারত দিচ্ছে হচ্ছে এখন নিরীহ মৌয়ালদের। মিথ্যা অজুহাতে পারমিট (অনুমতিপত্র) আটকে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণের অভিযোগে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে আট মৌয়ালকে। এ ঘটনায় দরিদ্র মৌয়ালরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কোনো উপায় না পেয়ে জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেতে রবিবার (১৬ মে) শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী মৌয়ালদের পক্ষে মো. অলী হাওলাদার জানান, শরণখোলা স্টেশন থেকে গত ১ এপ্রিল ১৫ দিনের পারমিট নিয়ে উপজেলার সোনাতলা গ্রামের ৯ জনের একটি মৌয়াল দল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান। পারমিটের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নবায়নের জন্য ১৫ এপ্রিল সব মৌয়াল সুন্দরবনের কোকিলমণি টহল ফাঁড়িতে হাজির হন। এ সময় কোকিলমণির বনরক্ষীরা মৌয়ালদের কাছে অতিরিক্ত মধু উৎকোচ দাবি করায় বনরক্ষী ও মৌয়ালদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

মৌয়াল অলি হাওলাদার জানান, ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের নামে আদালতে মামলা করে বন বিভাগ। এর বাইরে নিরীহ মৌয়ালদের পারমিট আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। কোকিলমণি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন দেখার কথা বলে তাদের কাছ থেকে পারমিট নিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে পারমিট ফেরত চাইলে কোর্টে গিয়ে আনতে বলেন। অনেক অনুরোধের পর পারমিট না পেয়ে কোকিলমণি কোস্ট গার্ডের সহায়তায় শরণখোলায় ফিরে এসে তারা শরণখোলা স্টেশন ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে পারমিট আটকে রাখার বিষয়টি অবহিত করেন।

তখন রেঞ্জ কর্মকর্তা পারমিট ফিরিয়ে এনে সমর্পণ করার ব্যবস্থা করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন এবং বিকল্প পারমিট করে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে বিকল্প পারমিটের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে মধু সংগ্রহ করে শরণখোলা স্টেশনে ফিরে আসেন তারা। এ সময় বনরক্ষীরা তাদের বলেন, আগের পারমিট সমর্পণ না করার ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তা পরিশোধ না হলে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পাবে। অনাদায়ে তাদের নামে বন মামলা দায়ের করা হবে।

মৌয়ালরা জানান, বন বিভাগের এমন কথা শুনে তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ঘর-বাড়ি সব বিক্রি করলেও লাখ টাকা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব না। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে তারা শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ডাকযোগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) অব্দুল মান্নান বলেন, কোকিলমণিতে পারমিট আটকে রাখার কথা মৌয়ালরা আমাকে জানালে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদেরকে রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে পাঠাই।

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, কয়েকজন মৌয়ালের নামে মামলা হওয়ায় পারমিটগুলো আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের কাছে আবেদন করলে তাদের জরিমানা মওকুফ করতে পারেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, মৌয়ালদের অভিযোগের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা