kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২১ ০৩:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু

দিনাজপুরের লিচু বাজারে আসতে আর দিন সাতেক বাকি। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার একে তো ফলন হয়েছে কম, তার ওপর দাবদাহে গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু। লিচুর অবয়বও তেমন একটা নাদুসনুদুস নয়। সেই সঙ্গে দিনাজপুরের লিচুর চিরচেনা মিষ্টতা নিয়েও এবার প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে লিচু বাগানি ও চাষির কপালে পড়েছে চিন্তার রেখা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, লিচু চাষে দিনাজপুরে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। এবার ছয় হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে হয়েছে লিচু চাষ। গেল বছর চাষ হয়েছিল ছয় হাজার হেক্টর জমিতে। এবার ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদিত হবে। তবে বেসরকারি হিসাবে লিচু উৎপাদিত হবে এর চার গুণ বেশি। টাকার অঙ্কে যা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে।

সবচেয়ে বেশি লিচুর বাগান রয়েছে দিনাজপুর সদরের মাসিমপুর, পুলহাট, সিকদারহাট, গোপালগঞ্জ, বাশেরহাট এবং বিরল উপজেলার মাধববাটি, করলা, নারাবাড়ি, হুসনা, রবিপুর ও কাজিপাড়ায়। সেখানে মাদ্রাজি ৩০%, মুম্বাই ৩৯%, বেদানা ৫%, চায়না থ্রি ২৫% ও কাঁঠালি মুম্বাই ১% জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদিত লিচুর ২০% দিনাজপুরে এবং ৮০% দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে।

বিরল উপজেলার বাগান মালিক মতিউর রহমান জানান, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত মৌসুমের চেয়ে লিচুর ফলন অনেক কম হয়েছে। একই কারণে লিচুর আকার ও স্বাদেও পরিবর্তন এসেছে। স্বাভাবিক রং ধরার আগেই মাদ্রাজি ও মুম্বাই লিচু পেকে ফেটে যাচ্ছে। সাত-আট দিন পরই মুম্বাই, বেদানা ও চায়না থ্রি জাতের লিচু বাজার উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে বাগান মালিকরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লিচুর বাগানগুলোয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক স্প্রে শুরু করেছেন।

সদরের মাসিমপুরে বাগান মালিক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, বৈশা?খের প্রচণ্ড দাবদা?হ ও অনাবৃ?ষ্টির কার?ণে লিচুর দানা প?রিপুষ্ট হয়নি। বৈ?শ্বিক জলবায়ুর প্রভা?বে লিচু উৎপাদন আশঙ্কাজনক হা?রে কমেছে। অন্য?দি?কে দাবদা?হের মধ্যে শিলাবৃষ্টির কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে। দানা প?রিপুষ্ট না হওয়ায় লিচু?তে টক স্বাদ বে?শি থাকবে। বৈরী আবহাওয়া থেকে লিচু রক্ষায় রোগ-বালাই প্রতিরোধ এবং রং ও আকারে আকর্ষণীয় করতে বাগানিরা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক স্প্রে করছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক  প্রদীপ কুমার গুহ বলেন, গত বছর ফলন বেশি হয়েছিল, সারা বছর বাগানের পরিচর্যা যেভাবে প্রয়োজন তা মালিকরা করেন না, কীটনাশকের ব্যবহার  এবং বৈ?শ্বিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে লিচুতে। সে কারণে এবার ফলন কিছুটা কম হয়েছে। লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঠিকভাবে লিচু বাগানে সেচ না দেওয়ায় গাছের খাদ্য চাহিদা বেড়ে যায়। শেষ সময়ে বৃষ্টির কারণে গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করায় লিচুর ভেতরের অংশ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে বাইরের অংশ বাড়েনি। এ কারণে দাবদাহে লিচু ফেটে যাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা