kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

সোনাদানা নিয়ে পালিয়েছে বউ, শ্বশুরকে জানান স্বামী; একদিন পর লাশ উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৬ মে, ২০২১ ২২:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনাদানা নিয়ে পালিয়েছে বউ, শ্বশুরকে জানান স্বামী; একদিন পর লাশ উদ্ধার

স্বামী-সন্তানের সঙ্গে লাকী।

ঈদের আগের দিন ফোনে মেয়ের স্বামীকে কিছু টাকা পাঠাতে বিকাশ নাম্বার চান শ্বশুর লিটন মিয়া। পাল্টা বলা হয় স্ত্রী টাকা পয়সা সোনাদানা নিয়ে দুই বছরের শিশু সন্তান রেখে পালিয়েছে। একদিন পর থানা থেকে জানতে পারেন পঁচাগলা লাশ পাওয়া গেছে স্বামীর ঘরের পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে। ময়নাতদন্তের পর রবিবার সন্ধ্যার আগে লাশ আসে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি গ্রামের বাড়িতে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত গৃহবধূ হচ্ছেন ওই গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে লাকী আক্তার (২২)। ২০১৫ সালে বিয়ে হয় পাশের সরিষা ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের আব্দুর রাশিদের ছেলে শাহ আলমের (৩০) সঙ্গে। বিয়ে পর থেকে টঙ্গীর টিএনটি এলাকায় মাছের ব্যবসার সুবাধে সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন শাহ আলম।

নিহত লাকীর বাবা লিটন মিয়া জানান, বছর খানেক সুখেই ছিলেন তার মেয়ে। এরপর থেকে স্বামী শাহ আলম মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় মাঝে মধ্যেই মেয়ের কাছে টাকা দাবি করেন। না দিলেই চলতো নির্যাতন। মেয়ের কথায় মাঝে মধ্যে ধার-দেনা করে টাকা পাঠাতেন তিনি। কিছু দিন ভালো থাকলেও ফের চাহিদা মতো টাকার জন্য অত্যাচার নির্যাতন চালাতেন। এর মধ্যে এ বছরের শুরুতে মেয়েকে তার শিশু সন্তানসহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। চারমাস পর শাহ আলমের বোনজামাই জুলহাসের পীড়াপীড়িতে মেয়েকে টঙ্গীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ অবস্থায় ঈদের আগে কথা ছিল মেয়েকে বাড়িতে পাঠাবে ঈদ করার জন্য। কিন্তু মেয়ে আসতে পারবে না বললে ঈদের আগের দিন মেয়ের স্বামী শাহ আলমকে ফোন করে কুশলাদি জেনে একটি বিকাশ নাম্বার চাইতেই পাল্টা জানানো হয় শিশু সন্তান রেখে লাকী রাতের কোনো এক সময় লাপাত্তা হয়ে যায়। কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে খোয়া গেছে ঘরের নগদ টাকা ও সোনাদানা। এ ঘটনার পর তিনি কি করবেন বুঝে উঠতে না পারলেও তিনি বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান শুরু করেন। এর মধ্যে গত শনিবার বিকেলে টঙ্গী থানা থেকে ফোন করে জানানো হয় লাকী আক্তার নামে এক নারীর লাশ থানায় আছে। পরে থানায় গিয়ে নিজের মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে অভিযোগ করেন স্বামী শাহ আলমেই মেয়ে লাকীকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল।

এ ঘটনায় তিনি শাহ আলম, তার বাবা রশিদ, মা রাণী আক্তার, বোন লাকী বেগম ও তার স্বামী জুলহাস মিয়াকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ অবস্থায় রাতেই পুলিশ স্বামী শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কাউন্সিলরের খবরে শাহ আলমের বসত ঘরের পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে পঁচাগলা নারীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর কোনো এক সময় হত্যা করে লাশ কক্ষের একটি আঁড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য। এ ঘটনায় স্বামী শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা