kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

কালিয়াকৈর ওসির মানবিকতা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২১ ১৮:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালিয়াকৈর ওসির মানবিকতা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর মানবিকতায় ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী সরকার নামের এক বৃদ্ধ ফিরে পেল তাঁর পরিবার। তিন দিন চিকিৎসা দিয়ে রবিবার দুপুরে তাকে তাঁর সন্তানের হাতে তুলে দেন তিনি। 

বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী সরকার চাদপুরের হাইমচর থানার গোলাম আলী সরকার কান্দিগ্রামের মৃত গোলাম আলী সরকারের ছেলে মোহাম্মদ আলী সরকার (৭০)। বৃদ্ধের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায, কিছুদিন ধরে ওই বৃদ্ধর স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। অনেক কিছুই তাঁর মনে পড়ে না। গত ১২ দিন আগে তিনি তাঁর ছোট ছেলে নাজমুল সরকারের ভাড়াবাসা গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী থেকে বের হন। এরপরই তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। ঈদের দিন (শুক্রবার) সারা দিন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা ছাপড়া মসজিদ এলাকায় দোকানের সামনে শুয়ে ছিলেন। এ অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর চিকিৎসা খরচ ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী নিজে বহন করেন।

এদিকে, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় ওই বৃদ্ধ তার নাম, গ্রাম, থানার নাম ছাড়া আর কিছু বলতে পারেন না। পরে ওসি মনোয়ার হোসেন কালিয়াকৈর থানা ফেসবুক আইডি থেকে বৃদ্ধের নাম ও ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী নুরুজ্জামান নামে ওই বৃদ্ধের এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ছবি দেখতে পান। বিষয়টি বৃদ্ধের পরিবারের লোকজনকে প্রবাস থেকে ফোনে জানালে তারা খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে কালিয়াকৈর থানায় আসেন। এসময় ওসি মনোয়ার হোসেন যাচাই-বাচাই করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই বৃদ্ধকে এনে তাঁর ছেলে দিদারুল ইসলামের হাতে তুলে দেন।

দিদারুল ইসলাম বলেন, 'থানার ওসি মহোদয়ের মানবতার কারণে আমার বাবাকে আমরা  ফেরত পেয়েছি। বাবাকে ফিরে পেয়ে আমি ও আমার পরিবারের সবাই খুশি'। পরে তারা মানবিক ওসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, 'মানুষের সেবা করাই পুলিশের ধর্ম। ওই বৃদ্ধ আমাদের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পেরেছেন। এতে আমিও অনেক আনন্দিত। তবে মানুষের যেকোনো সমস্যার কথা জানতে পারলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি'।



সাতদিনের সেরা