kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বির্তক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২১ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বির্তক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদনের আগেই নানা বির্তকের মুখে পড়েছে। উপজেলা কমিটিতে স্থান পাওয়া অধিকাংশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় লেখালেখি ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে প্রস্তাবিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান করে নিয়েছে প্রকাশ্যে জাতীয় নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নৌকাবিরোধী একটি গ্রুপ। সাথে রয়েছে জামায়াত ও বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক একাধিক নেতাকর্মী। এতে ক্ষোভ দানা বাঁধছে তৃণমূল অবহেলিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে। ফলে ক্ষুদ্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রস্তাবিত উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা কমিটিতে লিখিত একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন। প্রয়োজনে তারা আন্দোলন করবেন এমন হুঁশিয়ারিও দেন। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ একযুগ পরে অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে আছলম ইকবাল মিলনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান আজাদকে সাধারণ সম্পাদক এবং সহসভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদসহ ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ৬ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণার দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে প্রস্তাবিত এই কমিটি অনুমোদনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কাছে জমা দেওয়া হয়। জমাকৃত পূর্ণঙ্গ কমিটির বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ হলে শুরু হয় তোলপাড়।

বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে শারীরিক অক্ষম, বৃদ্ধ, যুবলীগ, বিএনপি ও অখ্যাত নেতাদের নাম কমিটিতে স্থান পাওয়ায় উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সোশাল মিডিয়ায় ওই নেতাকর্মীদের রাজনীতিক আদর্শ ও খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির ত্যাগী কর্মীরা নিন্দা ও গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ধিক্কার জানান। 

দলীয় একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সভাপতি/সম্পাদক গত ১২ এপ্রিল দাখিলকৃত ওই কমিটিতে নৌকাবিরোধী একাধিক ব্যক্তি প্রস্তাবিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সম্পাদকের স্বজন নিকট আত্বীয়জন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। সদ্যঃসমাপ্ত কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী, দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা আনোয়ার হোসেনের ভাই সানোয়ার হোসেন ও একাধিক নেতারা প্রকাশ্যে নির্বাচনে বিরোধিতা করলেও দখল করে নিয়েছেন কমিটির বড় বড় পদ। এছাড়া স্থান করে নিয়েছেন জামায়াত ও বিএনপির পরিচিত একাধিক নেতাকর্মী। প্রস্তাবিত ৭১ সদস্যের কমিটিতে আওয়ামীবিরোধী পরিবারের সদস্যরা এবং সদ্যঃসমাপ্ত কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নৌকা বিরোধীরা স্থান করে নিলেও প্রস্তাাবিত কমিটিতে স্থান হয়নি বিগত সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত এবং নৌকার পক্ষে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীর। 

কমিটিতে বঞ্চিত দলের নেতাকর্মীরা জানান, কোনোদিন রাজনীতি না করেও প্রস্তাাবিত কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আজাদুর রহমানের ভাতিজা অ্যাডভোকেট এ এস এম মাহফুজুর রহমান। এছাড়া মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন সভাপতি আছলম ইকবাল মিলনের মেয়ে অ্যাডভোকেট রোকশানা আক্তার ও তাহার নিকট আত্মীয় আশরাফুল হক বদরুল। হেফাজত নেতা নূরুল ইসলামকে করা হয়েছে সদস্য। আদমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. ফারুক আহমদ, বিএনপির ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ফজলুর রহমানও সদস্য পদে স্থান করে নিয়েছেন।

কমলগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম পুষ্প বলেন, পরিবারতন্ত্রের বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হওয়া উচিত। নৌকাবিরোধী এবং হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির মানুষকে নিয়ে প্রস্তাবিত যে কমিটি দাখিল করা হয়েছে সেই কমিটি বাতিলের দাবিতে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।  

মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মুন্না রায় বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাঠে নৌকা ও আওয়ামী লীগের কাজ করছি। কিন্তু আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া নেত্রীর সাথে বেইমানি করার শামিল।

শমশেরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রতন বর্মা বলেন, এই কমিটি যদি অনুমোদন করা হয় তাহলে রাজনৈতিক মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম কঠিন হয়ে পড়বে।

আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল দল। এই দলে পরিক্ষিত নেতাকর্মীর অভাব নেই। নৌকাবিরোধী বিএনপি জামাতের লোক টেনে এনে প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখা মানেই দলের জন্য অশনী সংকেত।

এদিকে, প্রস্তাবিত কমিটি বাতিল ও নৌকাবিরোধীদের বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মী নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে কমলগঞ্জ পৌর, শমসেরনগর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নসহ একাধিক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি/সম্পাদক কাছে দাখিল করেছেন। তারা জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে কমিটি বাতিল না করলে আন্দোলন ডাক দিবেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করেছেন।



সাতদিনের সেরা