kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

‘দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা, তাই সবাই মিলে হাওরে ঘুরতে এসেছি’

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২১ ১৫:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা, তাই সবাই মিলে হাওরে ঘুরতে এসেছি’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দেশের অন্যতম জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত ১ এপ্রিল বন বিভাগ এই নির্দেশনা জারি করে। তবে মাধবকুণ্ড বন্ধ থাকলেও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সেখানে ভিড় করছেন পর্যটকরা। কিন্তু প্রশাসন তাদের গেট থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। 

এতে লোকজন চা বাগান, হাকালুকি হাওর, পাখিবাড়িসহ উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ভিড় করছেন। দল বেঁধে শিশু-কিশোররা যানবাহনে গান-বাজনা করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন মাধবকুণ্ডে। এই তিন দিনে মাধবকুণ্ড গেট থেকে প্রায় ছয় হাজার পর্যটককে ফেরত পাঠিয়েছে স্থানীয় পর্যটন পুলিশ ও বন বিভাগ। 
সরেজমিনে পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা লোকজনকে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।

সুনামগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মাধবকুণ্ড বেড়াতে আসেন আক্তার হোসেন। ফাঁড়ি পথে লুকিয়ে ঢুকে যান জলপ্রপাত এলাকায়। তিনি বলেন, ‘অনেক দূর থেকে এসেছি। ঢুকতে দিচ্ছে না। মন খারাপ লাগছিল। পরে ফাঁড়ি পথে ঢুকে যাই।’

সিলেট থেকে পরিবার নিয়ে আসেন ছালেক আহমদ। তিনি বলেন, ‘জানি মাধবকুণ্ড বন্ধ। তারপরও এসেছি। বাসা বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগছে না। গেট থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। কাউকে ভেতরে যেতে দিচ্ছে না। ঝরণা দেখতে না পারার হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। চা বাগান ঘুরে ছবি তুলে চলে যাব।’

মাধবকুণ্ডে দায়িত্বে থাকা পর্যটন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রণীত চাকমা শনিবার বিকেলে বলেন, ‘করোনার কারণে সব পর্যটন স্পট বন্ধ। ঈদের ছুটিতে শুক্র ও শনিবার অনেক পর্যটক এসেছেন। আমরা কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিই না। তিন থেকে চার হাজারের মতো আমরা গেট থেকে ফেরত পাঠিয়েছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেতরে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।’

শনিবার বিকেলে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির হাল্লা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাখিবাড়ি ও হাওরে পর্যটকরা ভিড় করেছেন। কেউ খোলা পিকআপে দল বেঁধে গান বাজনা করছেন। কেউ বা পরিবার-পরিজন নিয়ে গাড়ি, মোটরসাইকেলে করে ঘুরছেন।

আমিনুল ইসলাম বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। বন্ধুদের নিয়ে হাওরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোথাও যেতে পারছি না। দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। তাই সবাই মিলে হাওরে ঘুরতে এসেছি।’ কথা হয় স্থানীয় ধারাভাষ্যকার ইকবাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হাকালুকির পরিবেশটা খুব সুন্দর। উন্মুক্ত জায়গায় একটু প্রশান্তির খুঁজে এসেছি।’

বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘উন্মুক্ত জায়গা হওয়ায় হাওরে মানুষ বেশি ভিড় করছেন। ঈদের দিন শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো লোকজন এসেছেন।’

এদিকে ঈদের ছুটিতে বড়লেখার চা-বাগানগুলোতে পর্যটকরা ভিড় করছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, বড়লেখার লক্ষ্মীছড়া, কেরামতনগর, পাল্লাথল, সমনভাগ চা বাগানসহ বিভিন্ন বাগানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে নানা বয়সী ভ্রমণপিপসু মানুষ চা-বাগানে ভিড় করেছে। তারা চা-বাগানে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলছেন। ভিড় বাড়লেও চা-বাগানে ঘুরতে আসা অধিকাংশ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।



সাতদিনের সেরা