kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

পিরোজপুরে নির্বাচনী সহিংসতা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত ২০

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২১ ১২:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিরোজপুরে নির্বাচনী সহিংসতা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত ২০

পিরোজপুরের কদমতলা ইউনিয়নে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শক ও ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে জেলার সদর উপজেলার কদমতলা বাজারে। আহত ১০ জনকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন কর্তৃক বোমা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার আহত কর্মীরা দাবি করেন। হামলায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন তাদের জেলা হাসপাতলে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।  

জানা গেছে, উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ খান এবং একই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সোবাহান হোসেন ও এক পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আহত মো. আজমির খান জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেন কদমতলা বাজার জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যান। সেখানে আমরা কিছু লোক তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।  এ সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ খানের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন লোক আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতে দা, লোহার রড নিয়ে  আমাদের ওপর গুলিসহ বোমা হামলা, কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। আমিসহ আহতদের আমরা চিকিৎসা নিতে জেলা হাসপাতালে যেতে চাইলে হামলাকারীরা আমাদের পথ আটকে বাধা দেয়। এ কারণে আহতদের পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  

আহত স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব শেখ জানান, কদমতলা বাজারে নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর হানিফ খান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অতর্কিতে তার লোকজনের ওপর বোমা, গুলিবর্ষণসহ সশস্ত্র হামলা করে। এতে তাদের ১০-১২ জন আহত হয়। আহতদের পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ খান এ হামলায় তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি  ওই রাতে কদমতলা বাজারে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে কথা বলছিলাম। এমন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেনের নেতৃত্বে তার ২৫-৩০ জন কর্মী এসে আমাকেসহ আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার আট কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান মিলু এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইটপাটকেল নিক্ষেপে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সোবাহান হোসেনসহ এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।  



সাতদিনের সেরা