kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

তরুণীকে উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায়, বখাটেদের হামলায় যুবকের মৃত্যু

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২১ ২১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণীকে উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায়, বখাটেদের হামলায় যুবকের মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় এক তরুণীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় বিচার চাওয়ায় বখাটেদের হামলায় বাম চোখে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ফাইজুল্লাহ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন আরো ১৪ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক চারজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের চাঁনপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, উপজেলার মাঝেরচর এলাকার হাবি মিয়া ছেলে আসাদ (৩৮), সিরাজ মিয়ার ছেলে ফুল মিয়া (২৮), কাশেম মিয়ার ছেলে শরিফ মিয়ার (২২), মৃত মতু মিয়ার ছেলে হকসা (৬০), আব্দুল মন্নাফের ছেলে লবীত হাসান (২০), তার স্ত্রী সাকিনা আক্তার (১৮), মজিবুর রহমানের দুই মেয়ে সাবিনা (২৩), সামিরা (১৪), মোমেন মিয়ার স্ত্রী আকলিমা (২৩), বাচ্চু মিয়ার ছেলে কবীর মিয়া (৩৪), তায়েব উদ্দিনের ছেলে মো. শহীদ মিয়া (৪৫), ফজলু মিয়ার ছেলে মো. আবুল কালাম (৪৫), মৃত মো. জরু মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৫০), ও কাছু মিয়ার ছেলে মোস্ত মিয়া (৬৫)।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করাসহ তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় স্থানীয় খামারবাড়ির ৮/১০ জন বখাটে যুবক। এনিয়ে ওই তরুণীর স্বজনরা জড়িতদের পরিবারের কাছে বিচার দেয়। পরে ওই যুবকরাসহ শতাধিক লোকজন স্থানীয় খন্দকার বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র রাম-দা, ছুরি, টেঁটা, বল্লম নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় বাম চোখে টেঁটাবিদ্ধ ফাইজুল্লাহকে হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নারীসহ টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন আরো ১৪ জন। তাদের মধ্যে টেঁটাবিদ্ধ রক্তাক্ত জখম হকসা মিয়া, বিল্লাহ মিয়া, মোস্ত মিয়া ও আসাদ মিয়াকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় অগ্নিসংযোগসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে জানায়, খামারবাড়ির ৮/১০ যুবক মিলে বেড়াতে আসা এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করেন। এক পর্যায়ে ওই তরুণীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় তারা। পরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে জড়িতদের পরিবারের কাছে নালিশ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকরা হামলা চালায়। ওই সময় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ ও রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোবিন্দ্র সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ।



সাতদিনের সেরা