kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

নোয়াখালীতে পথশিশুদের নিয়ে এক অন্যরকম আনন্দমেলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২১ ১১:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নোয়াখালীতে পথশিশুদের নিয়ে এক অন্যরকম আনন্দমেলা

নোয়াখালীতে অসহায়, পথশিশু ও ছিন্নমূলদের নিয়ে দিনব্যাপী ভিন্নরকম ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করেছে 'আমরা গোলাপ' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গতকাল শুক্রবার ঈদের  সকালে ‘মিষ্টিমুখ’ করার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর চৌমুহনী রেল স্টেশনের লঙ্গরখানায় এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় সেমাই, জর্দা, নুডলস ও বাহারি ফলের সমাহারে মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সুবাসে আরেকটুখানি রঙ এনে দেয় 'সাজঘর'। একই সময়ে সাজঘর উদ্বোধন করার পর টেবিলে সাজানো কসমেটিকস সামগ্রী নিয়ে পথশিশুরা চলে যায় বিউটিশিয়ান আপুদের কাছে। এত আগ্রহ নিয়ে ওদের সাজতে দেখা গেছে। 

পরে চালু হয় 'খেলনা ঘর'। প্ল্যাটফর্মে বসানো হরেক রকম খেলনার স্টল দেখে সবার মন যেন ছুটে যায় শৈশবে। পথশিশুরা ইচ্ছেমতো খেলনা সামগ্রী ফ্রিতে নেয় স্টলগুলো থেকে। নেচে, গেয়ে দিন কাটে ওদের।

বিকালে নোয়াখালী ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্যে স্থানীয় ব্যান্ড শিল্পীরা নাচে-গানে মুখর করে তোলেন চৌমুহনী রেল স্টেশন। প্রাণের স্পন্দনে উচ্ছ্বসিত হয় প্রত্যেকে। 'অ্যাকুয়াস্টিক ঈদ আড্ডা'য় গান গায় পথশিশুরাও। নাচে গানে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম ক্ষণিকের জন্য রূপ নেয় অসাধারণ এক শিশু পার্কে। 

এরই মাঝে দুপুরে লঙ্গরখানায় শুরু হয় বিয়ে বাড়ির খাবারের আয়োজন। গরু, খাশি, মুরগি, ডিম, সবজি, ডাল, চাটনি, ভর্তা, কোক ছিল এ আয়োজনে। পথশিশু, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের সাথে স্বেচ্ছাসেবী ও আগত অতিথিরাও একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করেন।

আয়োজনের উদ্যোক্তা ও সমন্বয়ক মুনীম ফয়সাল জানান, আমরা চেয়েছি এই মানুষগুলো যেন অন্তত একদিন নিজেদের ভাসমান মনে না করে। অন্তত একদিন তাদের সবটুকু চাওয়া পূরণ করতে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি বছরের একটি দিন তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে। তবে কতটুকু পেরেছি তা তারাই বলতে পারবে। 

এদিকে ঈদের দিনে এ আয়োজনে তারা যেন আকাশের চাঁদকে হাতে পেয়েছে। মহা আনন্দে ভাসমান শিশুদের বলতে দেখা যায় 'বছরের সবদিন যদি এমন হতো'।

ভাসমান এই মানুষেরা অল্পতে তুষ্ট হতে জানে। তাদের হাসিমুখকে সঙ্গী করে বিকালে দিনব্যাপী ঈদ উৎসবের সমাপ্তি হয়। পথশিশুদের নিয়ে এ আয়োজন সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।  



সাতদিনের সেরা