kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

বেতাগী-কচুয়া খেয়াঘাট

১০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা, অভিযানের পরও একই চিত্র!

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৪ মে, ২০২১ ১৩:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা, অভিযানের পরও একই চিত্র!

বেতাগী-কচুয়া খেয়াঘাটে গত ১১ মে কালের কণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে '১০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা!' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিন দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ অভিযান পরিচালনা করেন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযানের পর দিন গত ১২ মে থেকে খেয়াঘাট আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এতে ভোগান্তি ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঈদ যাত্রীসহ ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, বিষখালী নদী পারাপারে পাঁচ টাকার ভাড়া এখনো ৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি, যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচারণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক, অপর্যাপ্ত ও ত্রুটিযুক্ত ট্রলার দিয়ে নদী পারাপারসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারাদার সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো খেয়া পরিচালনা করছেন। খেয়া পারাপারের জন্য যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে টোল আদায়কারীরা খারাপ ব্যবহার করছেন এবং লাঞ্ছিতের ঘটনাও ঘটছে। ঘাট ইজারাদার রুস্তুম আলী হাওলাদার ও নুরুল হক কচুয়ার স্থানীয় লোক হওয়ায় যাত্রীদের জিম্মি করে বিষখালী নদীর কচুয়ার পাড় থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। প্রতিদিন ভাড়া আদায় নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে বরগুনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাহিদ মাহমুদ লিটু গত বছরের ৪ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীরা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় এবং নানা দুর্ভোগের প্রতিকার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ যাত্রী পারাপারে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পাঁচ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ঈদের সময়  ৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি পারাপারের নিয়ম থাকলেও একই পরিমাণে টাকা আদায় করা হয়। সরকার কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানছেন না আদায়কারীরা। ঈদের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল পারাপারে ১০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, বাইসাইকেল ১০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া পাঁচ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, আসবাবপত্র ১০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা ও হালকা যানবাহনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়।

ভোর ৫ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পারাপারের নিয়ম। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার পরই ওই বিষখালী নদী থেকে পার হতে হলে চাইলে তার কাছ থেকে রিজার্ভ ৫০০-৮০০ টাকা আদায় করা হয়।

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, মাত্র ২টি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার যাত্রী পারাপার করা হয়। এতে বেশির ভাগ সময় চাকরিজীবীদের অফিসে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। এতেও ভোগান্তি ও হয়রানি বাড়ছে। 

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া কোনোভাবেই আদায় করা যাবে না। অভিযানের পরও একই চিত্র দেখা গেলে করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 



সাতদিনের সেরা