kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

লালপুরে তিন শতাধিক শ্রমিক পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটি

নাটোর প্রতিনিধি   

১৩ মে, ২০২১ ১৬:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালপুরে তিন শতাধিক শ্রমিক পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটি

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্প সভাপতিদের ঠেলাঠেলিতে নাটোরের লালপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের তিন শতাধিক শ্রমিক মজুরি না পাওয়ায় তাদের পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। পরিবারগুলো তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কদিমচিলান ও দুয়ারিয়া ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে তিন শতাধিক দিন মজুর কাজ করেন। প্রকল্প সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজুরি বিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে দাখিল করে থাকেন। তার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।

কদিমচিলান ও দুয়ারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দাবি, তারা সম্প্রতি শ্রমিকদের মজুরি বিল পিআইও অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বিলের একটা অংশ দাবি করায় তাতে চেয়ারম্যানরা সম্মতি দেননি। তাদের অন্যায় দাবি না মানায় তিনি বিলে সই করেননি। ফলে তিন শতাধিক শ্রমিক তাদের ৬০ দিনের মজুরি উঠাতে পারেননি।

দুয়ারিয়া ইউনিয়নে কর্মরত শ্রমিক উজির সরকার জানান, তারা ৪০ দিন অন্তর অন্তর মজুরি তুলে সংসার চালান। এবারের ঈদের খরচও মজুরি বিল থেকে করার কথা ছিল। কিন্তু বিল জমা দেওয়ার পরও তারা মজুরি পাননি। ফলে তাদের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।

একই ইউনিয়নের শ্রমিক আছান মোল্লা বলেন, মজুরি না পাইয়া এখন বউ ছ্যালিক তিন বেলা খাওয়াতে পারছি না। ঈদের দিনও হয়তো না খায়া থাকতে হবি।

প্রকল্প সভাপতি শারমিন আক্তার, আলাল উদ্দিন, ফজলুর রহমান জানান, উপজেলায় বিল জমা দেওয়ার পরও টাকা পাইনি। যে প্রকল্পে ৪৫ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। সেখানে পিআইও ৩৫ থেকে ৪০ জনের টাকা দিতে চায়। এই অন্যায় আবদার তারা মানেননি।

কদিমচিলান ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড প্রকল্প সভাপতি কলিমুদ্দিন বলেন, খেটে খাওয়া অতিদরিদ্রদের মজুরি নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা ঠিক হচ্ছে না।

কদিমচিলান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, পিআইওর অন্যায় আবদারে রাজি না হওয়ায় তিনি বিল আটকে রেখেছেন। আমরা তো শ্রমিকদের জন্য কিছুই করতে পারছি না।

দুয়ারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, পিআইও আমাদের বিল কাটছাঁট করে সুবিধা নিতে চাচ্ছেন। আমরা তাতে রাজি না। কারণ তিনি আমাদের শ্রমিকদের দিয়ে যখন ইউনিয়নের বাইরে কাজ করান তখন ন্যায় অন্যায় দেখেন না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অন্যায় আবদারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্প সভাপতিরা বিল দাখিল করেননি বলেই মজুরি আটকে গেছে। বিল না পেলে আমি বিল পাশ করবো কিভাবে? তবে ঈদের পরই তাদের মজুরি দিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাম্মী আক্তার প্রকল্প কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, পিআইও অফিসে শ্রমিকদের বিল জমা পড়েনি।

চেয়ারম্যানদের বিল জমা দেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ তাকে কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান। 



সাতদিনের সেরা