kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

ফেরিতে পদদলিত হয়ে আনছারের মৃত্যু, পরিবারকে ভাসিয়ে গেল শোক সাগরে

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর   

১৩ মে, ২০২১ ১৬:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরিতে পদদলিত হয়ে আনছারের মৃত্যু, পরিবারকে ভাসিয়ে গেল শোক সাগরে

ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে বোনের সঙ্গে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে বুধবার সকালে যাত্রা করেন শরীয়তপুরের কিশোর আনছার আলী। কিন্তু ফেরি পার হতেই শেষ হলো সব আয়োজন। মাওয়া প্রান্তে শাহ পরান ফেরিতে ভিড়ের চাপে মৃত্যু হয় তার। ঢাকার মীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি স্টিল কারখানায় কাজ করত আনছার (১৬)। আনছার আলী নড়িয়া উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের গিয়াসউদ্দিন মাদবরের ছেলে।

ঈদে কারখানা বন্ধ, তাই বোন নয়নতারার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরছিল। ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে তারা পৌঁছায় সকাল ৮টার দিকে। নদী পার হতে ১০টার দিকে শাহ পরান ফেরিতে ওঠে। এ সময় মানুষের ভিড়ে পদদলিত হয়ে মারা যায় আনছার মাদবর (১৬)। দুপুর ১২টার দিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে পৌঁছলে মাদারীপুরের ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে স্থানীয় করবস্থানে আনছারকে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে আনছারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বোন নয়নতারা বাকহীন। মা নাছিমা বেগম উঠানে বসে সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে বিলাপ করছেন। প্রতিবেশী আর স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিলাপ করতে করতে আনছারের মা নাছিমা বেগম বলেন, নতুন ঘরে ঈদ করা হইলা না আমার সোনার। আনছার কইছিল কিস্তি উডাইয়্যা ঘরের কাম শেষ করো মা। আমি কিস্তি চালামু। চিন্তা কইরোনা মা আমাগো আর ঢাহায় ভাড়ার ঘরে থাকন লাগবো না। আমরা আমাগো বাড়িতে থাকুম। কিস্তি উঠাইয়া ঘরের কাম শেষ করছি। ছেলে আসতেছিল মিলাদ দিয়ে নতুন ঘরে ঢুকে ঈদ করবে। ছেলে আমার বাড়িতে আসিছে। নতুন ঘরে আর ঢোকা হলো না। চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে কবরে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আনছারের বাবা গিয়াসউদ্দিন মাদবর ৩ ছেলে ও ৪ মেয়েকে নিয়ে ৯ বছর আগে কাজের সন্ধানে সপরিবারে ঢাকায় পাড়ি জমান। ঢাকায় গিয়ে মীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি ভাড়া ঘরে থেকে বসবাস শুরু করে তারা। পরিবারের সবাই মিলেই কাজ করতেন ওই এলাকার বিভিন্ন কলকারখানায়। সবার উপার্জনে ভালোই কাটছিল তাদের জীবন। গেল বছর করোনা আঘাত হানার পর পরিবারের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঢাকা শহরে বসবাসের খরচ চালাতে না পেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন তারা। পুরনো ঘরে বাবা-মা ও ছোট ভাই-বোনদের রেখে ঢাকায় কাজ করছিল আনছার। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান আনছার। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর আনছারের উপার্জনেই চলত তাদের পরিবার। গ্রামের বাড়িতে এসে কিস্তি করে নতুন করে একটি টিনের ঘর তৈরি করে আনছার। বাড়ি এসে মিলাদ দিয়ে নতুন ঘরে ওঠার কথা ছিল তার।



সাতদিনের সেরা