kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

'ঈদ করব পরিবারের সঙ্গে, নদী পার হতে হবে যেভাবেই হোক'

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৩ মে, ২০২১ ০৮:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'ঈদ করব পরিবারের সঙ্গে, নদী পার হতে হবে যেভাবেই হোক'

ঈদ আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গেই উপভোগ করতে হয়। না হয়, কোনো আনন্দই থাকে না। ছোটদের যেমন নতুন পোশাকে ঈদ আনন্দ জমে ওঠে। ঠিক তেমনি যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে চায়। এজন্য ছুটি পেয়ে বাড়ি যাচ্ছি। মেঘনা নদী পাড়ি দিতে হবে। টাকা বেশি যাবে? সমস্যা নেই। ফেরি না পেলে ট্রলারে চেষ্টা করব। তবুও যেভাবেই হোক নদী পার হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এভাবেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা বলেন কয়েকজন যাত্রী।

লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর হাট থেকে সিএনজিযোগে যাওয়ার পথে বুধবার (১২ মে) রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন।

সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথটি চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ জেলার সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিতে এ রুটে যাত্রীদের চলাচল বেড়ে যায়। ঘাটগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। লঞ্চ চলাকালীন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মেঘনা নদী পাড়ি দিতে হয়। করোনা সংক্রমণরোধে লকডাউন চলায় লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। ফেরিতে যাত্রী পারাপারও বন্ধ ছিল। সে সুযোগে মজু চৌধুরীর হাট ও ভোলার ঘাট এলাকার একটি সিন্ডিকেট প্রতিজন থেকে হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে যাত্রী পারাপার করত। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আবার ঘাট ইজারাদারও।

এদিকে যাত্রীদের জন্য লঞ্চ বন্ধ থাকলেও ফেরি চালু রয়েছে। এতে এ রুটে চলাচলকারী ফেরি কলমিলতা, কৃষাণী, কনকচাপা ছাড়াও ঈদ উপলক্ষে ফেরি কুসুমকলি বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ফেরিগুলো নদী পার হচ্ছে। প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকলেও নাড়ির টানে ও পরিবারের পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে বাড়ি যাচ্ছেন কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবিসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন।

সবশেষ রাত আড়াইটার সময় মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটে চারটি ফেরিই অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ফেরি কলমিলতা ও ফেরি কুসুমকলি বিপুল যাত্রীতে ঠাসা ছিল। দুই একটি গাড়ি থাকলেও যাত্রীদের ভিড়ে তা চোখে পড়ে না। অন্যদিকে নদীর মাঝপথে গেলে ভোলার ইজারাদাররা ফেরিতে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া উত্তোলন করেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৬৫ টাকা হলেও গাদাগাদি যাত্রীর উপস্থিতে প্রতিজন থেকে ৩ থেকে ৫০০ টাকা করে হাতাচ্ছেন। মাঝ নদীতে কিছুই বলার সুযোগ নেই যাত্রীদের।

সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে আসা কয়েকজন যাত্রী জানায়, গত ৪-৫ মাস তারা বাড়ি যেতে পারেনি। ঈদটি অন্তত পরিবারের সদস্যের সঙ্গে উপভোগ করতে চায়। যত ভাড়া হোক, যাবোই। যেভাবেই সম্ভব সেভাবেই নদী পার হয়ে আপন মানুষদের কাছে পৌঁছাতে হবে। ঈদটা সবার সঙ্গে উপভোগ করতে হবে।

মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি সবুজ হোসেন ফিরোজ বলেন, কোনো গাড়ি নেওয়া হচ্ছে না। সাহরির পর ভোলার উদ্দেশে ফেরি কলমিলতা ও কুসুমকলি ছেড়ে যাবে। দুটি ফেরিতেই যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থা। এ সুযোগে যাত্রীদের থেকে ভোলার ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন। ফেরি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে প্রায় ২ হাজার যাত্রী বহন করা যেতে পারে। তবে যাত্রীদের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার হয়ে থাকে।

চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল বলেন, অবৈধভাবে কোনো যাত্রী পারাপারে আমি কিংবা আমার লোকজন জড়িত নয়। এটি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উপস্থিত থেকে কয়েকজনকে আটক করেছি। তাদের জরিমানা ও নৌকাও জব্দ করেছে ম্যাজিস্ট্রেট।

মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটের প্রান্তিক সহকারী রেজাউল করিম রাজু বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি। এজন্য গাড়ির চেয়ে যাত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। একটি ফেরিতে প্রায় ২ হাজার যাত্রী বহন করা যায়। এতে যাত্রীপ্রতি সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৬৫ টাকা। যাত্রী পারাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এজন্য যাত্রীদের যাতায়াতে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা