kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

রাতে চাপ বেড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ মে, ২০২১ ০০:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাতে চাপ বেড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট

ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী বহনকারী যানবাহনের চাপে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার (১২ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার গাড়ি আসতে থাকে। দিনভর ট্রাক, মাইক্রোবাসে যাত্রী এলেও সন্ধ্যার পর থেকে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসও চলাচল করছে।

ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে মহাসড়কের সয়দাবাদ, মুলিবাড়ী ও কড্ডার মোড় এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। প্রচণ্ড গরম আর যানবাহনের চাপে পথে পথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। বঙ্গবন্ধু সেতু সূত্র বলছে মঙ্গলবার সকাল হতে বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে চার হতে পাঁচ গুণ বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। বিকেলে যানবাহনের পরিমাণ আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মহাসড়কে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বুধবার সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিম প্রান্তে যানবাহন চাপ অনেক বেশি থাকায় মহাসড়কের কড্ডার মোড় এলাকায় উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ চলায় ও নলকা সেতু এলাকায় সরু সেতুর কারণে থেমে যানজট লক্ষ্য করা গেছে। তবে অন্যান্যবারের মতো যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোথাও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। এ দুটি এলাকায় কিছুক্ষণ পরপর খুব ধীরগতিতে চলছে যানবাহনগুলো। ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল মহাসড়কটিতে চলাচল করছে। মহাসড়কটিতে বাসের সংখ্যা কম হলেও মাঝে মধ্যে কিছু চলছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিন মহাসড়কে দেখা যায়, ঘরমুখি মানুষের যেন ঢল নেমেছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রতিটি ট্রাকের ওপরে খালি নেই। শুধু মানুষ আর মানুষ। নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। মহাসড়কটিতে গণপরিবহন অবাধে চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের অনন্দ করতে অনেক কষ্ট করে ট্রাক, পিকআপভ্যান আবার মাঝে মধ্যে মুরগির গাড়িতে খাচার ওপরে বসে গন্তব্যে যাচ্ছেন তাঁরা। এরই মধ্যে আবার কেউ কেউ তাঁদের পরিবারের শিশু সন্তানটিকে নিয়েও বেড়িয়েছেন পরিবারে সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে। তবে মহাসড়কে ঘরমুখি এসব মানুষগুলোর অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের মধ্যে যাদের একটু সাধ্য আছে তাঁরা ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে গন্তব্যে ছুটছেন। কেউ যাচ্ছেন মোটরসাইকেলে করে। সব মিলিয়ে মহাসড়ক যেন যানবাহনের মহাযজ্ঞে পরিণত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজা সূত্র জানায়, যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় সেতুটিতে ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে সেখানে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫১ হাজার ৯৪২টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মানুষের বাড়ি ফেরার সংখ্যাও বাড়তে থাকছে। যে কারণে মহাসড়কে যাবাহনের চাপটাও বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কটিতে উন্নয়নের কাজ চলছে যে কারণে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে মাঝে মধ্যে একটু জটলা তৈরি হচ্ছে। তবে পুলিশ সদস্যদের তিন পালায় দায়িত্ব পালন করায় মহাসড়কে কোনো দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে না। একটু ধীরগতি হচ্ছে তবে অন্যান্য বছরের মতো দীর্ঘ সময় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও কামারখন্দ সার্কেল) শাহীন কবির জানান, মহাসড়কে প্রচুর গাড়ির চাপ রয়েছে। মাঝে মধ্যে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক সেটা নিরসন করছে। কখনো গাড়িগুলো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। মহাসড়কে শৃংখলা রক্ষায় পুলিশের মোবাইল দল, পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।



সাতদিনের সেরা