kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

৩০০ হতদরিদ্র নারী-পুরুষ পেল শাড়ি লুঙ্গিসহ খাদ্যসামগ্রী

বিনামূল্যে ঈদ বাজার!

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

১২ মে, ২০২১ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনামূল্যে ঈদ বাজার!

স্বামী ও দুই ছেলে বাসশ্রমিক। সবাই এখন বেকার। লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ। তাই ঘুরছে না সংসারের চাকাও। সব মিলিয়ে করোনা দুর্যোগে বিপর্যস্ত বকুল রাণীর সংসার। ‘লোকজনের কাছ থাইক্যা হুইন্যা একটু সাহায্যের লাইগ্যা তিনডা তিন-ও (৩৩৩) ফোন দিছিলাম। কী ইংলিশে কিতা কয়, বুজি না কিছুই। কুনু কাম অইছে না। যে য্যান যাইতো কয় হেনোই যাই। এবাই খাইয়া না খাইয়া চলতাছি।’ করোনাকালে নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন তিনি।

ঈদের আয়োজন হলেও এই হতদরিদ্র নারীকেও একটি কার্ড দিয়ে আজ আমন্ত্রণ জানানো হয় ঈদ আনন্দ বাজারে। সেখান থেকে তিনি বিনামূল্যে শাড়ি, দুই ধরণের চাল, তেল, দুধ, সেমাই, লবণ, চিনিসহ ১৩ ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়েছেন। অন্তত এক সপ্তাহের খাবার পেয়ে তার মুখে অনেকদিন পর হাসি ফুটেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন খুশনাহারের স্বামী মিলন মিয়া। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেই কোনো রকম চালাচ্ছিলেন সংসার। ঘরে দুই ছেলেমেয়ে। করোনা শুরুর পর তিনি যে টুকটাক আয় করতেন তা-ও বন্ধ হয়ে গেছে। মামলার খরচ, সংসার খরচ কিছুই যেন আর চলছে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ঈদের আগে ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই। তাকেও একটি কার্ড দিয়ে বিনামূল্যের এই বাজারে আসতে বলে আয়োজকরা। নিজের জন্য নতুন শাড়ি ও বিভিন্ন ধরণের খাদ্যসামগ্রী পেয়ে অনেকটাই যে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন খুশনাহার। শুধু এ দুজন নয়, বাজারে আসা প্রতিটি নারী-পুরুষই চরম সঙ্কটে পড়ে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কাজকর্ম করে চলতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কারণে তাদের সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।

এই হতদরিদ্র লোকগুলোর জন্য কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এনায়েত করিম অমি আজ বুধবার দুপুরে একেবারে ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজন করেন পরিবেশবান্ধব এই ঈদ আনন্দ বাজারের। শহরের নগুয়ার বিন্নগাঁও মহল্লায় তাঁর বাসার সামনে খোলা জায়গায় এ ব্যতিক্রমধর্মী বাজারের আয়োজন করেন তিনি। এর নাম বাজার হলেও এখান থেকে পয়সা খরচ করে কিনতে হয়নি কিছুই। সবাই নিজ হতে বিনামূল্যে পেয়েছে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় মোটামুটি সবকিছুই।

কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিকতায় না গিয়ে অভাবী লোকজনের জন্য খুলে দেওয়া হয় এ বাজার। সবাই নিজের হাতে সুশৃঙ্খলভাবে পণ্যগুলো নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেন। বাজারে যাওয়া লোকজন জানান, এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দেখে তাদের খুব ভালো লেগেছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে যেভাবে লোকজনকে ঈদের উপহার দেওয়া হলো তা এক কথায় অসাধরণ উদ্যোগ।

শুরুতে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে বাজারে ঢুকানো হয় লোকজনকে। এরপর স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের নিয়ে যায় পণ্যগুলোর সামনে। বিভিন্ন টেবিলে থরে থরে সাজানো নানা ধরণের পণ্যসামগ্রী তারা নিজ হাতে ব্যাগে ভরে বাজার ত্যাগ করেন। এভাবেই দুপুর থেকে কয়েক ঘণ্টা চলে বিন্যামূল্যের বাজারটি।

ঈদ আনন্দ বাজারের আয়োজক এনায়েত করিম অমি বলেন, মূল উদ্দেশ্য লোকজনকে সাহস দেওয়া। হতদরিদ্ররা যেন নিজেদের অসহায় না ভাবে সেই বিশ্বাসটুকু দেওয়া।

তিনি বলেন, আমরা ঈদ উপহার দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এখানে এসে কেউ যেন করোনায় আক্রান্ত না হয়, সে দিকটা খেয়াল রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, আমার সীমিত সামর্থ্যে প্রতিজনকে তার পরিবারের জন্য এক কেজি  পোলাও চাল, তিন কেজি সাধারণ চাল, এক প্যাকেট সেমাই, এক কেজি চিনি, এক প্যাকেট দুধ, আধা লিটার  তেল, এক প্যাকেট লবণ, একটি সাবান, একটি হ্যান্ড সিনিটাইজার, একটি মাস্ক, শ্যাম্পু ও নারীদের জন্য একটি নতুন শাড়ি আর পুরুষদের জন্য একটি করে লুঙ্গি উপহার দেওয়া হয়। আজ ৩০০ পরিবারের জন্য আয়োজনটি নির্দিষ্ট ছিল। ঈদের পরও এ কার্যক্রম চলবে।



সাতদিনের সেরা