kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

বিরল সেই 'রেড কোরাল' সাপটি এখন পুরোপুরি সুস্থ

অনলাইন ডেস্ক   

১২ মে, ২০২১ ০৯:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরল সেই 'রেড কোরাল' সাপটি এখন পুরোপুরি সুস্থ

উদ্ধারের সময় খনন যন্ত্রের আঘাতে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যায় সাপটির। ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ে উদ্ধার বিশ্বের বিরলতম বিলুপ্ত প্রজাতির সেই 'রেড কোরাল কুকরি' সাপটি নিবিড় পরিচর্যা ও সেবা-শুশ্রূষায় সেরে উঠেছে। সাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমলাবতি’। পেটে গুরুতর জখম নিয়ে তাকে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় সাপটি। সেসময় মাটি খনন যন্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিল সাপটি। তবে প্রায় তিন মাসের নিবিড় পরিচর্যায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে সে।

রাজশাহীর সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমান তার স্থানীয় এক সহকারীর মাধ্যমে সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় সাপটির নাড়িভুড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার খোলস বদলানোর ফলে এখন ক্ষতস্থানের দাগ মুছে গেছে কমলাবতির।

এখন পুরোপুরি সুস্থ কমলাবতি। 

গত রবিবার (৯ মে) আন্তর্জাতিক জার্নাল- এশিয়া প্যাসিফিকে এই সাপটিকে নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ভীষণ খুশি বোরহান বিশ্বাস রোমন। তিনি বলেন, 'এটা একটি বড় প্রাপ্তি। সবচেয়ে সুখের বিষয় সাপটাকে তারা চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষায় বাঁচিয়ে তুলতে পেরেছেন। কারণ ওর বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম ছিল। রাজশাহী আনার পর থেকে তার নিবিড় পরিচর্যা-পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে সাপটিকে সুস্থ করে তোলা গেছে'।

বিরল প্রজাতির এই সাপটি ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে কদাচিৎ দেখা মিললেও দেশে এটাই প্রথম। সাপ গবেষকরা বলছেন- যেহেতু সাপটি বিরল প্রজাতির তাই এটি নিয়ে গবেষণা খুব একটা বেশি হয়নি। স্বল্পমাত্রার বিষাক্ত বলা হলেও এনিয়ে বিষদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝালইশালসিরি ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজারের পাশে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যন্ত্র দিয়ে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির মাটি খোঁড়ার সময় নিচ থেকে বেরিয়ে আসে বেশ কয়েকটি সাপ। তখনও কারও ধারণা ছিল না এখানেই মিলবে বিশ্বের বিরল প্রজাতির প্রাণি রেড কোরাল কুকরি সাপ। মাটির নিচ থেকে উদ্ধারের পর দেখা যায় সাপটি যন্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়। এ অবস্থায় সেটিকে চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছিল।

সাপটি এরপর রাজশাহীর পবা উপজেলার সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা চলছিল।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রধান প্রশিক্ষক রাজশাহীর বোরহান বিশ্বাস রোমন জানান, এযাবৎকালে দেশের শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই গবেষকরা মাত্র দুটি এ প্রজাতির সাপের দেখা পেয়েছেন। ফলে সাপের তালিকায় নতুন একটি নাম যুক্ত হবে এতে। গবেষণাতেও আসবে নতুন মোড়। বাংলায় এর কোনো নাম নেই। তবে গবেষক হিসেবে তিনি এর নাম দিয়েছেন 'কমলাবতি'। স্থানীয়রা সাপটিকে এই নামেই এখন ডাকছেন। ১৯৩৬ সালে প্রথম ভারতের উতরখণ্ডে দেখা যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া এই সাপটি হলো ২২তম। এর আগে আর কোথাও এমন সাপ দেখা যায়নি।



সাতদিনের সেরা