kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির

নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ মে, ২০২১ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

প্রতীকী ছবি

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আঁখি আক্তার (১৯)কে তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন নিহত আঁখির পরিবার। পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃতের ছুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসেন।

আজ বুধবার (১২ এপ্রিল) ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। এদিকে নিহতের স্বামী বিজয় মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে বিজয় মিয়া (২৪) ভালোবেসে এক বছর আগে বিয়ে করে একই গ্রামের ছায়েদ মিয়ার মেয়ে আঁখি বেগম (১৯)কে। প্রেম করে বিয়ে করায় এবং মেয়ের পরিবারকে ছোট জাত আখ্যা দিয়ে ছেলের পরিবার প্রথমে তাদের বাড়িতে জায়গা দেয়নি। কিছুদিন পর ছেলেকে তার স্ত্রীকে থাকার জন্য বাড়ির পাশে আলাদা ঘর নির্মাণ করে দেন বিজয় মিয়ার বাবা ফজল মিয়া। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য আঁখি বেগমকে মারপিট করে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। 

খবর পেয়ে মেয়ের বাবা একাধিকবার তাদের বাড়িতে মেয়ে দেখতে যেতে চাইলে স্বামীর পরিবার সেই সুযোগ দেয়নি। তবে প্রায় সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। গতকাল মঙ্গলবার ইফতারের ১০ মিনিট আগে স্বামী বিজয় মিয়া তার শ্বশুর ছায়েদ মিয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন করে বুধবার সকালে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। এবং তার মেয়ে আঁখির বিচার করে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতে বলে বিজয়। এর কিছুক্ষণ পরই মেয়ের বাবা খবর পান তার মেয়েকে নিয়ে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তিনি হাসপাতালে আসলে মেয়ের মরদেহ হাসপাতালের মেজেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সমিরন দাশ একদল পুলিশ নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে মৃতের সুরতহাল তৈরি শেষে লাশ থানায় নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, মৃতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এসআই সমিরন দাশ। তার গলার পাশে দাগ রয়েছে। নিহতের স্বামী বিজয় মিয়া জানান, বিকালের দিকে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। সন্ধ্যার দিকে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আঁখিকে দেখতে পেয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতাল নিয়ে আসে। তবে কি কারণে ঝগড়া হয়েছে স্বামী তা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। 

এদিকে নিহত মেয়ের বাবা ছায়েদ মিয়া আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিয়ের ১ বছরের মধ্যে দুটি গর্ভ নষ্ট করার অভিযোগ করেন আঁখির বাবা। বর্তমানেও আঁখি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা