kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

কৃষকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রি-৬৭ বোরো ধান

কৌশিক দে, খুলনা   

১১ মে, ২০২১ ২১:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কৃষকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রি-৬৭ বোরো ধান

তীব্র লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে খুলনায় কৃষকের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রি-৬৭ বোরো ধান। জলবায়ুজনিত প্রভাব কাটিয়ে এ জাতের কৃষক যেমন আবার বীজের স্বত্ব ফিরে পাচ্ছেন, তেমনি উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন। কৃষকরা বলেছেন, বিরি -৬৭ লবণ এলাকার মানুষকে নতুন পথ দেখিয়েছে। এতে অন্যান্য জাতের তুলনায় সার, ওষুধ ও পানি কম লাগায় দিন দিন এ ধান চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এই জাত উপকূলীয় ছড়িয়ে দিতে পারলে ধানের উৎপাদন আরো বাড়ছে।

সম্প্রতি জেলার পাইকগাছার হরিঢালী, রাড়ুলি ও কপিলমুনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। 
রামনাথপুর গ্রামের কৃষক সুজিৎ চন্দ্র মন্ডল (৬৩) বলেন, দিন দিন জমি কমছে,লবণ ও পানি সংকট বাড়ছে। কিন্তু ফলন বেশী লাগবে। আমরা দুই বছর ব্রি-৬৭ ধান লাগিয়েছি। অনেক খবর কম। ফসলও বেশী। আবার বীজ রাখতে পারছি। প্রতি বছর তাই এই ধান চাষ বাড়ছে।

পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি-৬৭ ধানের চাষ করেছিলেন অশোক চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, অন্য ধানে আমরা বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ১৬-১৮ মন ধান পাইছি। কিন্তু ব্রি-৬৭ তে ২২-২৫ মন ধান পাচ্ছি। প্রতি বছর হাজার হাজার টাকার বীজ কিনতে হতো। আমরা এ ধানের বীজ রাখতে পারছি। অন্য কৃষককেও দিতে পারছি। এই ধানে আমরা খুশি।

দাসপাড়ার কৃষক মিলন দাস (৪৮) বলেন, পানিতে তীব্র নোনা। বৃষ্টিও কম। তাই ধানে রোগ-বালাই, সার বেশী লাগে। কিন্তু ব্রি-৬৭-তে সার পানি কম লাগে। অন্য জাতের ধানে বিঘা প্রতি সেখান ২০ কেজি সার লাগে, সেখানে এই ধানে  ১০ কেজি হলেই চলে, ওষুধ খরচও কম।

ষাটোর্দ্ধ কৃষক কার্তিক চন্দ্র দাস বলেন, বাপ-দাদারা নিজেরা বীজ রেখে ধান চাষ করেছেন। আমরা ভুলতে বসেছিলাম। এখন আবার ধানের বীজ রাখতে ও অন্যদের দিতে পারছি। তিন বছর এই ধানের চাষ করছি। বীজ ধানের জন্য কারো দয়ার দরকার হয়না। এতেই আমরা খুশি।

স্থানীয় কৃষক দপ্তর ও চাষিরা জানান, ২০১৭ সালে পাইকগাছার আগরঘাটা ও হরিঢালীতে কৃষি দপ্তর ব্রি-৬৭ বোরো ধানের চারটি প্রদর্শনী খামার করে। সেখান থেকে ২০১৮ সালে অ্যাওসেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১৫০ কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ (ব্রি-৬৭) বিতরণ করে। এই বছর ব্রি-৬৭ চাষ হয় ১৫০ হেক্টর জমিতে। সেখান থেকে এ ধানের চাষ শুরু। এবার বোরো মৌসুমে উপজেলার হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলি, গদাইপুর, চাঁদখালী এলাকায় সাড়ে ৬’শ কৃষক ২ হাজার দু’শ হেক্টর জমিতে এ ধানের চাষ হয়েছে। ব্রি-৬৭টি জলবায়ূ পরির্তন সহিষ্ণু। এজাতের ধানে বীজতলা অর্থাৎ চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি ও বয়স্ক গাছ  ডিএস/ মি লবণাক্ততা সহিষ্ণু। বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ফলন ২২-২৫মন। কৃষক নিজেই এ ধানের বীজ সংরক্ষণ করতে পারে। ধান রোপন থেকে ফসল তোলার গড় সময়ও মাত্র তিনমাস। ফলে দিন দিন এ ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

পাইকগাছা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্রি -৬৭ জাতের বোরো ধানের জাত লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিকর্তনজনিত সমস্যা সহনশীল। ধানের চাল মাঝারী চিকন, ভাত সাদা ও ঝরঝরে তাই খেতেও সুস্বাদু। প্রচলিত অন্যান্য জাতের চেয়ে এ ধানে  রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা কৃষক নিজেই বীজ রাখতে পারছেন। তাই দিন দিন এ ধানের চাষ বাড়ছে। জলবায়ু দুযোর্গ কবলিত খুলনায় এ ধান চাষ নিয়ে আমরা আশাবাদী।



সাতদিনের সেরা