kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

ভোলাহাটে হনুমানের হামলায় ৫ জন জখম

আহসান হাবিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১১ মে, ২০২১ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোলাহাটে হনুমানের হামলায় ৫ জন জখম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ভারতীয় হনুমানের হামলায় আহত ৫ জন আহত হয়েছে। গুরতর ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভারতীয় একটি হনুমান ভোলাহাটের মেডিক্যাল মোড়ে চলে আসে। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে বজরাটেক এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। উৎসুক জনতা হনুমানটিকে দেখার জন্য ভিড় জমায় এবং ছবি তোলা, ভিডিও করা, বিভিন্ন প্রকার খাবার দিতে থাকে। কেউ কেউ বাড়িতে পালন করার জন্য ধরার চেষ্টা করে। এতে হনুমানটি ক্ষুদ্ধ হয়ে সোমবার উসুক জনতার উপরে হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করে।

আহতরা হলেন, রাধানগর কালিতলা গ্রামের শুকুর মাহজনের ছেলে জাহান (৬৫), আলিসাহাসপুর গ্রামের নজর আলী মাষ্টারের ছেলে গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইয়ারুল (৪৫), কানারহাট শাহপাড়া গ্রামের আসরের ছেলে নফুল (৭০), বজরাটেক গ্রামের কাশেম (৭০) ও নুরুল ইসলাম (৬০)। আহতদের দ্রুত ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

দায়িত্বরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আলী বলেন, ইয়ারুল ও জাহানের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে দুজন রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসক জানান। তবে অপর আহত একজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে আহতের পরিবার জানায়।

গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের জানান, আমি আহতদের দেখতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। আহতেদের অবস্থা গুরতর হওয়ায় দুজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল পাঠানো হয়েছে। হনুমানটিকে বিরক্ত করার জন্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

বন কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম বলেন, হনুমানের প্রিয় খাবার শসা, গাজর ও আলু। অন্য খাবার দিলে তেমন খায় না। তাকে বিরক্ত করলে ক্ষতি করার আশংকা আছে। বিরক্ত না করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন তিনি।

ভোলাহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শামশুল হক বলেন, উপজেলা নির্বাহী আমাকে হনুমানটি আটক জন্য বলেছিলেন। আমাদের কাছে আটক করার মতো সরঞ্জাম না থাকায় হনুমানটি এখনো আটক করা হয়নি। এ কাজ বনবিভাগের। আমাদের সহযোগিতা চাইলে করবো বলে জানান।

ভোলাহাট থানার ওসি মাহবুবুর রহমান সরেজমিন গিয়ে হনুমানটিকে বিরক্ত না করার জন্য স্থানীয়দের নিষেধ করেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আমি ও বনবিভাগ হনুমানটি ধরার জন্য পরামর্শ করেছি।

ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.চা.) শেখ মেদেহী ইসলাম হনুমানটিকে বিরক্ত না করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন। কেউ যেন হনুমানটিকে বিরক্ত করতে না পারে সে জন্য তার পাশে থাকতে গ্রাম পুলিশকে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা