kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

বাইসাইকেলে ২৮০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরলেন মৌসুমি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১১ মে, ২০২১ ১৫:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাইসাইকেলে ২৮০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরলেন মৌসুমি

মৌসুমি আক্তার এপি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। থাকেন ঢাকায়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি পেয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে একটানা ২৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। একজন নারী হয়ে এত বড় একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করায় অবাক এলাকাবাসী। তবে এমন সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন তার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা।

জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের রথবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম তালুকদারের মেয়ে মৌসুমি আক্তার এপি। তিনি থাকেন ঢাকার গোলাপবাগে। সেখানে বনানীর 'চিটাগাং গ্রামার স্কুল ঢাকা' নামের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি পেয়ে বাড়ি ফেরা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পরেন। লকডাউনের কারণে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় এবং করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে গণপরিবহন এড়িয়ে বাইসাইকেলে তিনি বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। 

গত ৩ মে বিকেল ৫ টা ৩৩ মিনিটে ঢাকার গোলাপবাগ থেকে বাইসাইকেলে তিনি রওনা দেন। এরপর জাহাঙ্গীর নগরে তার সাথে যোগ দেন সিরাজগঞ্জের মীর রাসেল নামের অনার্সের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। এরপর সেখান থেকে তারা দুজনে একটানা বাইসাইকেল চালিয়ে রাসেলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভূঁইয়াগাতি এলাকায় পৌঁছায়। রাসেল রাড়ি ফিরলে এপি সেখানে একা হয়ে যান। একাই রওনা দেন 

মৌসুমি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি ঢাকায় যেখানে থাকি সেখান থেকে আমার সান্তাহারের বাড়ি পর্যন্ত দুরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। আমি জাহাঙ্গীর নগর ও বগুড়ায় দুই জায়গায় থেমেছি, ঘুরেছি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেশকিছু সময় সাইকেল বেশি চালাতে হয়েছে। যার ফলে এই দূরত্ব বেড়েছে।'  

এবার তিনি একাই টানা বাইসাইকেল চালিয়ে পৌঁছে যান বগুড়ায়। বগুড়াতে এসে যাত্রাবিরতির পর তার বান্ধবী মালার বাসায় যান। সেখানে সাহরি শেষে সকাল ৬টায় তিনি সান্তাহারের উদ্দেশে রওনা করেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এবার যাত্রা কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও থেমে যাননি তিনি। ১৪ ঘণ্টা চালিয়ে পরের দিন সকালে পৌঁছে যান সান্তাহারে।

মৌসুমি আক্তার এপি জানান, লকডাউনের কারণে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অন্য কোনো যানবাহনে যেতে চাইলে গাদাগাদি করেই বাড়ি ফিরতে হবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বাড়ি ফিরতে এমন উদ্যোগ নিয়েছি। তাছাড়া বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরা অনেক দিনের শখও ছিল। মনের শক্তির কারণে রোজা রেখে বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়েছে।

সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, 'এপি একজন নারী হয়ে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এমন সাহসিকতা অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণাও হয়ে থাকবে।'

মৌসুমি যাত্রাপথের বর্ণনা দিয়েছেন এই লেখায় 'এখনও স্বপ্ন বলেই ভেবে যাচ্ছি'



সাতদিনের সেরা