kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

শহিদুরের রিকশার চাকায় ঘোরে মেয়ের চিকিৎসার স্বপ্ন

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১০ মে, ২০২১ ২০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহিদুরের রিকশার চাকায় ঘোরে মেয়ের চিকিৎসার স্বপ্ন

ছোট্ট শিশু সুমি। সবে মাত্র স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এরই মধ্যে বন্ধুদের তাচ্ছিল্য আর প্রতিবেশীদের নজরে অপয়া হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। জন্মের পর থেকেই নাকের সামান্য সমস্যায় এখন তার জীবনে অন্ধকার নেমে আনছে। তবে সুমির বাবা-মায়ের দাবি চিকিৎসা করালেই তাকে ভালো করানো সম্ভব। রিকশা চালক বাবার পক্ষে মেয়েকে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।

সুমি নামের ছোট্টা মেয়েটির বাড়ি দিনাজপুর বিরামপুর পৌরশহরের পূর্বজগন্নাথ পুর মহল্লায়। বাবা শহিদুর ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। মা বেলি বেগম গৃহিণী। বড় মেয়ে সুমি (১৩) আর ছোট মেয়ে সুরাইয়া আকতারকে (৬) নিয়ে জীর্ণ ঘরে তাদের সংসার।

সুমির মা বেলি বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জন্মের সময় সুমি শরীরের গঠন আর দশজনের মতোই ছিল। কিন্তু তার নাকের সামনে অংশটুকু একটু বোচা ছিল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার নাকের অবস্থা এখন অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। 
তিনি বলেন, এরই মধ্যে দিনাজপুরে এক চিকিৎসকে দেখিয়েছেন তারা। তাদের দাবি অপারেশন করালেই শিশুটির আবার স্বাভাবিত হয়ে যাবে। তবে রিকশাচালক বাবার সংসারের যে আয় সেই টাকায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ায় সম্ভব। 

শহিদুর রহমান বলেন, ‘ছোট্ট মেয়েটিকে প্রতিবেশীরা অনেক তাচ্ছিল্য করে। তাকে অপয়া বলে। মেয়ে মানুষ বিয়ে দিতে হবে। তার চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু অল্প আয়ে মেয়ের চিকিৎসা স্বপ্ন থেকে যায়। সারাদিন রিকশা চালিয়ে আয় হয় ২শ থেকে ৩শ টাকা। কখনো একটু বেশি হয়। এর ওপর আশা এনজিও’র কিস্তি দিতে হয় সপ্তাহে ১৩শ টাকা। সব মিলিয়ে বেশ কষ্টেই আছি।

সুমি বলেন, ‘আমি স্থানীয় হোসেন আলী মেমোরিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। আমার নাকটি দেখতে ভয়ঙ্কর হওয়ায় বান্ধবীরা আমার সাথে খেলা করতে চায় না। তাচ্ছিল্য করে। নিজেকে খারাপ লাগে। বাবা রিকশা চালিয়ে যে পরিমাণ টাকা আয় করেন তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে যায়। চিকিৎসা করার মতো তেমন টাকা নেই।’ 

জানতে চাইলে বিরামপুর পৌর মেয়র আক্কাস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলেই বিষয়টি অমানবিক। এরই মধ্যে আমি বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ওই অসহায় পরিবারটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পরিমল কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ওই শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় একটি ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার পরেও যদি কোনো সরকারি সহযোগিতা দেওয়া যায় সেটিও দেওয়া হবে।

দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি শিবলী সাদিক বলেন, ‘শিশুটির পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’



সাতদিনের সেরা