kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

‘আল্লায় বসুন্ধরার মালিককে বাঁচাইয়া রাহুক’

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১০ মে, ২০২১ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আল্লায় বসুন্ধরার মালিককে বাঁচাইয়া রাহুক’

‘পোলাহানের বাপ ১৩ বছর আগে মইরাগেছে বাজান। ভাঙ্গা দোহান চা-পান বেছি। দুইশ-তিনশ টেহা অয়, এক পুলা এক মাইয়া লইয়া, খাইয়া না খাইয়া থাহি। করোনা, রোজা, এর মধ্যে নগডাউন। বেচাকিনি নাই, দোহান (দোকান) বন্ধ। একরহম না খাইয়া থাহি, ঘরে খাওন নাই। ভাবছিলাম ঈদের দিনটা কিঅব? এহন চাইল, ডাইল, ভুড, তেল, চিনি, সেমাইসহ অনেক খাওন পাইয়া ঈদের আগেই ঘরে ঈদের দিন লাগতাছে। দোয়া করি আল্লায় বসুন্ধরার মালিককে বাঁচাইয়া রাহুক, তাঁর বালামছিব্বদ (আপদ-বিপদ) দূর করুক।’ বসুন্ধরা গ্রুপের সৌজন্যে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের ‘ঈদ উপহার’ নিতে এসে কথাগুলো বলছিলেন পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের নদীর পাড় গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের স্ত্রী হতদরিদ্র সাজেদা খাতুন (৪২)।

‘বাবা, আমি অভাবী মানুষ। কাজ করলে খাবার জুটে, না করলে বন্ধ। রোজা শেষ পর্যায়ে মানুষজন ঈদের কেনাকাটা করছে। আমার কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ পড়ছে, ঘরে তিনজন মানুষ,খাবার নেই বললে চলে। ঈদে চাইল,ডাইল সেমাই চিনি কিনব কি দিয়া? আজ ফুলবাড়িয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাতীর সঙ্গে লাঠিতে ভর দিয়ে ‘ঈদ উপহার’ নিতে এসে কথাগুলো বলছিলেন সত্তরোর্ধ্ব কলিম উদ্দিন। এসময় তাঁর স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়েও সাথে ছিল। দেশের শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ঈদ উপহার পাওয়ার পর আবারও কথা হয় কলিম উদ্দিনের সাথে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর দুই চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে। ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে দেয়া খাদ্য সামগ্রী দেখে সবার সামনে বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দুই হাত তুলে আল্লার কাছে দোয়া করেন।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ভিক্ষোক, হকার, রিশকাচালক, হতদরিদ্র ও  শ্রমিকসহ তিন শতাধিক পরিবারের জন্য দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ঈদ উপহার পাঠিয়েছিল। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা পৌরসভাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের তালিকা করেন। রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ঈদ উপহারে স্লিপ দিয়ে আসেন। আজ সোমবার ফুলবাড়িয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে সবার মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ, কমিউনিটি পুলিশিং শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ।

শুভসংঘ ফুলবাড়িয়া শাখার সভাপতি প্রভাষক নির্মল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম রাসেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. নুরুল ইসলাম খান, প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন, উদীচী ফুলবাড়িয়া শাখার সভানেত্রী ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পারভীন আখতার রেবা, উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মো. আব্দুল হালিম, প্রভাষক জসিম উদ্দিন, প্রভাষক এস,এ নয়ন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের সহ সভাপতি স্বপন কুমার বিশ্বাস, গৌর সেন, মোহাম্মদ সোহেল রানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, সাদিকুর রহমান রাসেল, আ. করিম, শারমিন সুলতানা, মাম্পি সাহা।

শুভসংঘের সভাপতি প্রভাষক নির্মল বিশ্বাস বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক পক্ষের উদার মানসিকতার কারণে দেশের লাখ লাখ মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদ আনন্দ করবে। তাঁদের মধ্যে শুভসংঘের কারণে আমাদের উপজেলায়ও শত শত পরিবার রয়েছে।

উদীচীর সভানেত্রী পারভীন আখতার রেবা বলেন, নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ করেছেন বসুন্ধরার মালিক পক্ষ, যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের মুখে অনেকটা ঈদের হাসি ফুটেছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. নুরুল ইসলাম খান বলেন, মানুষের দুঃসময়ে যারা পাশে দাঁড়ায়, তাঁরাই প্রকৃত মানুষ ও দেশ প্রেমিক। স্বচ্ছ তালিকা করে শুভসংঘের সদস্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে টোকেন পৌঁছে দিয়েছে, যে কারণে প্রকৃত অসহায়রা খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন।

শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা ডা. হারুন আল মাকসুদ বলেন, শুভসংঘ ভালো কাজে সব সময় সবার পাশে থাকে, থাকবে। বসুন্ধরা গ্রুপ ঈদ উপহার দিবে, জানার পর অনেক ভালো লেগেছে। কারণ অনেক অসহায় পরিবারে ঘরে ঈদ আনন্দের ভাগিদার হতে পারব।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার বলেন, দেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক ঈদ আসলে দেশের বিভন্ন উপজেলায় হাজার হাজার অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেন। তিনি আমার জানামতে একজন ভালো মানুষ। বসুন্ধরা গ্রুপ কালের কণ্ঠ শুভসংঘের মাধ্যমে ফুলবাড়িয়ায় ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন, আমরা তাকেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।



সাতদিনের সেরা