kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বামনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

বিদ্যালয়ের কাজ শেষ না হতেই খসে পড়ছে পলেস্তরা, দেয়ালে ফাটল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১০ মে, ২০২১ ১৭:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয়ের কাজ শেষ না হতেই খসে পড়ছে পলেস্তরা, দেয়ালে ফাটল

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে। গেল বছর জুলাই মাসে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৯ মাস বেশি অতিক্রম হলেও এখনো ভবন বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, অধিক লাভের আশায় ঠিকাদার রাসেল রায়হান নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করছেন। নির্মাণ কাজ চলাকালীন পলেস্তরা খসে পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে কাজ তদারকি করছেন না।

অন্যদিকে মুঠোফোনে ‘পলেস্তরা খসে পড়তেই পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন ভবন নির্মাণ কাজ তদারকিতে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান। তবে নির্মাণ কাজের সময়সীমা অতিক্রম করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, বামনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা শ্রেণিকক্ষ অনুযায়ী বেশি ছিল। এতে পুরাতন ভবনে পাঠদান ব্যহত হতো। পরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪ তলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের দরপত্র আহ্বান করে। ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর কনস্ট্রাকশন কাজটি পায়। ভবন নির্মাণ কাজে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গেল বছর জুলাই মাসে কর্তৃপক্ষকে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে পলেস্তরা খসে পড়ছে। তারা নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ালে পানি দেয়নি। পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৩ মাস একজন শ্রমিককে বেতন দিয়ে নিয়মিত পানি দেওয়া হয়েছে। 

ঠিকাদার রাসেল রায়হান বলেন, প্রকৌশলী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজ তদারকি করছেন। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। যেসব স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, এখনো ভবনের কাজ শেষ হয়নি। পলেস্তরা খসে পড়তেই পারে। তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণ কাজ সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও এখনো ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। ভবন বুঝে পেলে তখন নিয়ম অনুযায়ী সময়সীমা অতিক্রমের ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জরিমানা করা হবে।



সাতদিনের সেরা