kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

‘বসুন্ধরার এই জিনিস পাইয়্যা ভালা মতো ঈদডা করতাম পারবাম’

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

৯ মে, ২০২১ ১৯:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বসুন্ধরার এই জিনিস পাইয়্যা ভালা মতো ঈদডা করতাম পারবাম’

‘কত হানো ঘুরলাম, কেউ কিছু দেয় না। খালি কয় করোনা আর করোনা। না দেয় চেয়ারম্যান, না দেয় মেম্বার। এমনকি বড় লোহেরাও দেয় না। অহন তে বসুন্ধরা দিলো কিবায়? তারা তো ঢাহাততে (ঢাকা) টেরাক (ট্রাক) ভাইর‌্য পাডাইছে। আল্লাহ তারারে দিছেও যেবায় দেয়ও হেইবায়। এই রোজার দিন মন ভইর‌্য দোয়া করবাম। বসুন্ধরার এই জিনিস পাইয়্যা ভালা মতো ঈদডা করতাম পারবাম।’ আজ রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের পক্ষ থেকে ৩০০ অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এখানে উপহার নিতে আসা বিধবা জমিলার মা (৬০) উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উপরের কথাগুলো বলেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয় স্থানীয় সরকারী শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠে। প্রতিটি বস্তায় ছিল চাল, ডাল, তেল, সেমাই, দুধ, চিনি, ছোলা ও লবণ। ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল, পৌর মেয়র রফিক উদ্দন ভুঁইয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

স্থানীয় কালের কণ্ঠের শুভসংঘের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। ইদ সামগ্রী নিতে আসা আব্দুর রহিম (৬০), হাজেরা খাতুন, লাল মিয়া (৫০) ও প্রতিবন্ধী চাঁন বানু জানান, আসছে ঈদে যখন কেউ কিছুই দিচ্ছে না। তখন বসুন্ধরা এগিয়ে এসে তাঁদের আত্মার শান্তি করেছে। এই কারণে তাঁরা এই রোজার মাসে বসুন্ধরার জন্য মন খোলে দোয়া করবেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র রফিক উদ্দিন ভুইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েও এতো বড় সফলতা দেখাতে পারছি না। বসুন্দরা যেভাবে তৃণমূলের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করছে তা অভাবনীয়। তাঁদের এই কাজ দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসলে অসহায় মানুষ কিছু পাবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানের মনও বড়। আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বসুন্ধরা আজ এই কারণেই সুনাম কুঁড়িয়েছে।

ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন, আসলে বসুন্ধরা শুধুই নামেই নয় কাজেও তারা নাম্বার ওয়ান। করোনার এই ক্রান্তি লগ্নে তারা যে কাজ করছে তা সকল ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। বসুন্ধরার জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

প্রধান অতিথি এমপি আনোয়ারুর আবেদিন খান তুহিন বলেন, সুদূর ঢাকা থেকে আমার নান্দাইলের অসহায় মানুষের জন্য বসুন্ধরা যে উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছে তার জন্য আমার এলাকার সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকল মানবিক কাজে বসুন্ধরা সব সময় এগিয়ে আছে। তাদের কর্মকাণ্ডে সবসময় ব্যতিক্রম। তাদের শিল্প গ্রুপে লাখ লাখ মানুষ কর্ম পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি অভিভুত বসুন্ধরার এই কাজের জন্য। যখন দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিত্তশালীরা এগিয়ে আসছে না তখ বসুন্ধরা তাদের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে অসহায়দের মাঝে। এটা সকলের জন্য উদাহারণ।

সাংবাদিক প্রবাল মজুমদার বলেন, বসুন্ধরা যে কাজটি করেছে তা সকল শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের করা উচিত। তাহলে কোনো মানুষ না খেয়ে থাকার কথা নয়। একটি মহৎ কাজ করেছে বসুন্ধরা।



সাতদিনের সেরা