kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

মাথা ন্যাড়া করার প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে খুন করে কিশোর

নাটোর প্রতিনিধি   

৮ মে, ২০২১ ১৮:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাথা ন্যাড়া করার প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে খুন করে কিশোর

নিহত মহিবুল্লাহ

নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি মোবাইল ফোন এবং শিশুটির মামার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মহিবুল্লাহ নামের ছয় বছরের এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করে কিশোর নয়ন। পুলিশ নয়নকে গ্রপ্তার ও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাকু ও মহিবুল্লাহ মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বেলা ১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত নয়ন গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ী গ্রামের মন্টুর ছেলে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, সিংড়া উপজেলার গোটিয়া মহিষমারী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ইসাহক আলীর ছেলে শিশু মুহিবুল্লাহ তার মায়ের সঙ্গে প্রায় এক মাস আগে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ি গ্রামে নানার বাড়ি বেড়াতে আসে। গত (বৃহস্পতিবার) বিকেলে মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখতে দেখতে বাড়ির বাইরে যায় সে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে এক ভূট্টার জমিতে তার বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। নিহত শিশু মহিবুল্লাহর মামা ১২ বছর বয়সী সোহান জানায়, সে প্রতিবশী সনয়নকে চাকু ধার দিতে দেখেছে। এরপর পুলিশ নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন একেক সময় একেক কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে সে মহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে। কারণ হিসেবে সে জানায়, এর আগে সোহান তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর থেকে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। কিন্তু সোহানের শক্তি বেশী থাকায় সে কিছু করে উঠতে পারছিল না। 

অপরদিকে, সে মহিবুল্লাহর ফোন নিয়ে একটু গেম খেলতে চাইলে মহিবুল্লাহ দিত না। এ কারণে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহিবুল্লাহকে পাখীর বাসা দেখানোর কথা বলে সে ভূট্টা খেতে নিয়ে গিয়ে সেখানে চাকু দিয়ে জবাই করে লাশ ভূট্টা খেতে ফেলে আসে। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জুবায়ের, সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার, গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা