kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

মৃৎশিল্পীদের জীবনে এখন ঘোর অন্ধকার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

৮ মে, ২০২১ ১০:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৃৎশিল্পীদের জীবনে এখন ঘোর অন্ধকার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রামের মানুষ একসময় মাটির তৈরি হাঁড়ি, বাসন, কলস, বদনা, মুড়ি ভাজার খোলাসহ নানা সামগ্রী ব্যবহার করতেন গৃহস্থালীর কাজে। এসব পণ্য নিপুণ হাতে তৈরি হতো কুমারপল্লীতে।

তবে নানা সংকটের পরও যাঁরা এখনও এ পেশার সঙ্গে রয়েছেন, তাঁদের 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের প্রভাবে মৃৎশিল্পীদের জীবনে জমাটবাঁধা অন্ধকার আরো জেঁকে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিলকাজিুলী ও পেঁচিবাড়ি গ্রামে পাল সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। একসময় তাদের জীবন কাটত মৃৎশিল্পকে ঘিরে। পরিবারের সবাই মিলে গৃহস্থালী নানা সামগ্রী তৈরি করে সেগুলো হাট-বাজার ও গ্রামে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৃৎসামগ্রীর চাহিদা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকায় জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে তাঁদের অনেকেই পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এর পরও যাঁরা বংশগত ঐতিহ্য রক্ষায় মনের টানে এই পেশায়ই নিজেদের যুক্ত রেখেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে তাঁরা নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।

চৈত্রসংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখকে ঘিরেই মূলত মৃৎসামগ্রীর উল্লেখযোগ্য বেচাকেনা হয়। বছরের বেশির ভাগ আয় আসে ওই সময়ই। কিন্তু, এ বছর করোনা সংক্রমণরোধে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী সব অনুষ্ঠান বিশেষ করে চৈত্রসংক্রান্তি, বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিক্রি‌ও হয়নি। একবছর ধরে করোনায় দোকানপাট বন্ধ থাকায় হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

কারখানায় ছাঁচদানির চাকা ঘুরছে না। রঙতুলির ছোঁয়াও নেই। ভাটির (আগুনে পোড়ানো চুলা) আগুন জ্বলছে না আরো আগে থেকে। সব মিলিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন পাল সম্প্রদায়ের লোকজন।

বিলকাজুলী পালপাড়ার মাখন চন্দ্র জানান, এই কাজ করে জীবন কাটানো তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রদায়ের অনেকেই বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণরা এই পেশায়  আগ্রহ বোধ করছে না। আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করে তারা।

কয়েক বছর আগেও মৃৎসামগ্রীর চাহিদা ভালো ছিল বলে বর্ষার সময়টা ছাড়া সারা বছরই ব্যস্ত সময় কাটাতে হতো মৃৎশিল্পীদের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাঁদের সময়। আয়-রোজগারের পথ একরকম বন্ধই হয়ে গেছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকারি প্রণোদনা কিংবা অন্য কোনো সহায়তাও মেলেনি বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা