kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

'তালা সন্ত্রাসী’ সেই মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৮ মে, ২০২১ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'তালা সন্ত্রাসী’ সেই মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাদল হোসাইন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উপহার গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের ময়মনসিংহের নান্দাইলের একটি আশ্রয়ণে বরাদ্দপ্রাপ্ত বিধবাকে পছন্দের ঘর পাইয়ে দিতে টাকা দাবি করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার)। টাকা চেয়ে না পেয়ে ওই বিধবার ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে টানাহেঁচড়া ও মারধরসহ হত্যার চেষ্টা চালান তিনি। এ ঘটনার পর প্রশাসন গিয়ে তালা খুললেও ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই বিধবা বাদী হয়ে শুক্রবার (৭ মে) রাতে হত্যার হুমকি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে মেম্বারকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকার লোকজন ওই প্রভাবশালী মেম্বারকে এখন 'তালা সন্ত্রাসী' হিসেবে অখ্যায়িত করছেন।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই ঘরগুলোর অবস্থান নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর নান্দাইল ত্রিশাল সড়কের বালিপাড়া সেতুর নিচে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে চরভেলামারী নামক স্থানে। গত ১৪ জানুয়ারি ওই স্থানের ১০টি ঘর নির্মাণ শেষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয় জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে। সেখানে ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৯ দাগে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেমি পাকা ঘর বরাদ্দ পান মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী মোসা. আনোয়ারা। এক মেয়ে-নাতি নিয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এই ঘর মেম্বার নিজের পছন্দের লোকের জন্য দাবি করে বিধবাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আর না গেলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল সকালে ওই ঘরে স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদল হোসাইন তালা লাগিয়ে দেন।

বিধবা অনোয়ারা জানান, খবর পেয়ে তালা খোলার চেষ্টা করলে মেম্বার বাদল তাঁকে চড়-থাপ্পড় মেরে টানাহেঁচড়াসহ মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে গত ৩০ এপ্রিল কালের কণ্ঠে 'আমার ওয়ার্ডে আমিই সব, অনুমতি না নিয়ে ঘরে ওঠায় তালা মারছি' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় প্রশাসন গিয়ে ঘরের তালা খুললেও ওই বিধবা আর সেই ঘর পায়নি। কথিত লটারি দিয়ে তাঁকে (বিধবা) অন্য আরেকটি ঘরে যেতে বলা হয়। কিন্তু বিধবা ওই ঘরে না গিয়ে নিজের বসবাস করা ঘরেই অবস্থান করে বিচারের জন্য মেম্বারকে অভিযুক্ত করে থানায় মারধর, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন নান্দাইল থানার এসআই শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযুক্ত মেম্বারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ওই বাদল মেম্বার এলাকায় এক মারামারি ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে জামিন না নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।



সাতদিনের সেরা