kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

বশেমুরবিপ্রবিতে প্রক্টরের বিরুদ্ধে ১৭ সহকারী প্রক্টরের অনাস্থা

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৮ মে, ২০২১ ০২:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বশেমুরবিপ্রবিতে প্রক্টরের বিরুদ্ধে ১৭ সহকারী প্রক্টরের অনাস্থা

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্যের কাছে  লিখিত অভিযোগ করেছেন ১৭ জন সহকারী প্রক্টর। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রুটিন উপাচার্যের মেয়াদকালে নিয়োগকৃত প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানসহ সব সহকারী প্রক্টরের পদ অবৈধ এবং সাবেক উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. শাহাজাহান তার ক্ষমতার বাহিরে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রক্টরের প্রতি অনাস্থার কারণ জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর মাহবুব আলম বলেন, 'ড. রাজিউর রহমান প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দু'একটা বিষয়ে আমাদের ডাকলেও পরবর্তীতে কোনো বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। বিশেষ করে আমি কাজ করার সুযোগ পাইনি। 

একারণে আমি নতুন উপাচার্য যোগদানের পর পরই অনাস্থা জানিয়েছিলাম। এছাড়া তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ। আর এর কারণ হলো রুটিন দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া এতজন সহকারী প্রক্টর থাকায় সহকারী প্রক্টরদের মাঝে সিনিয়র কাউকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দিতে পারতো।

উপাচার্য রুটিন দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ের  ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিপন্থী নয় এবং আইন অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগ দিতে পারে এমন যেকোনো পদ শূন্য হলে রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য ওই পদে নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন।

বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'কোনো পদ শূন্য হলে রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে নিয়োগ প্রদান করতে পারেন। তবে তিনি কাউকে পূর্ণ মেয়াদের জন্য স্থায়ী নিয়োগ দিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে রুটিন উপাচার্যের নিয়োগকৃত ব্যক্তি যদি সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করে তাহলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি ওই ব্যক্তির নিয়োগকে স্থায়ী করতে পারেন।

রুটিন ভিসি কর্তৃক প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, 'রুটিন উপাচার্য শূন্য পদে কাউকে নিয়োগ প্রদান করলে সেই নিয়োগের ধরন অস্থায়ী হয়। তবে নতুন উপাচার্য যদি দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকেই পদে বহাল রাখেন তাহলে সেই নিয়োগ নিয়ে আর প্রশ্নের সুযোগ নেই। সহকারী প্রক্টরদের মধ্য থেকেই প্রক্টর নিয়োগ দিতে হবে কিনা এবং সহকারী প্রক্টররা প্রক্টরের প্রতি অনাস্থা জানাতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রক্টর নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকারী প্রক্টরদের মধ্য থেকেই কাউকে নির্বাচনের বাধ্য বাধকতা নেই। এছাড়া একজন প্রক্টর তার কাজের জন্য উপাচার্যের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন, এক্ষেত্রে সহকারী প্রক্টরদের অনাস্থা জানানোর সুযোগ নেই।

এদিকে, বশেমুরবিপ্রবি আইন ২০০১ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ড. রাজিউর রহমানের নিয়োগপত্রে দেখা গেছে, তাকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলেও কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

অনস্থার বিষয়ে প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে এখনো অফিসিয়ালি অবগত নন বলে জানান। 

এ বিষয়ে সাবেক উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. শাহাজাহান বলেন, 'আমি দায়িত্ব পালনকালে নিয়ম বহির্ভূত কোনো কাজ করিনি। প্রক্টর পদ শূন্য হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একজন শিক্ষককে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছিলাম।'

অনাস্থার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে এ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করায় ২০১৯ এর ১০ অক্টোবর আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমানকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।



সাতদিনের সেরা