kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

সাতক্ষীরায় দিনমজুরকে শ্বাসরোধে হত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাতক্ষীরায় দিনমজুরকে শ্বাসরোধে হত্যা

পরকীয়ারকারণে এক দিনমজুরকে গলায় ডিশলাইনের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ সাতক্ষীরা সদরের বকচরা গ্রামের আফছার আলীর পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।

নিহতের নাম আলমগীর হোসেন (২২)। তিনি সাতক্ষীরা সদরের বকচরা পশ্চিমপাড়ার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। আটক ব্যক্তি হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল (২১)।

বকচরা গ্রামের সুফিয়া খাতুন জানান, তার ছেলে আলমগীর হোসেন একজন দিনমজুর। কয়েক বছর আগে বাপের বাড়ির পাশে তিন কাঠা জমি কিনে সেখানে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী আছিয়ার দোকানে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আলমগীর। রাত বেশি হওয়ায় ও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনিসহ স্বজনরা আলমগীরকে খুঁজতে বের হলেও পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই গ্রামের আফছার আলী তার পুকুরে গিয়ে একটি মৃতদেহ উপুড় অবস্থায় ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুকুরপাড়ে পড়ে থাকা জুতা দেখে লাশটি তার ছেলে আলমগীরের বলে শনাক্ত করেন। নিহতের গলায় ও মুখে ডিশলাইনের তার পেঁচানো ছিল। তাকে তার দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বালিয়াডাঙা ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সামছুর রহমান জানান, তাদের গ্রামের ভাটা শ্রমিক আব্দুল জলিলের স্ত্রী ময়নার সঙ্গে নিহত আলমগীর হোসেনের পরকীয়া আছে সন্দেহে জলিল তার স্ত্রীর (ময়না) সঙ্গে বিরোধে জড়ায়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অবস্থা দেখা দিলে তিনি সালিসের সিদ্ধান্ত নেন। ঈদের পর এ নিয়ে বসার কথা ছিল। শুক্রবার সকালে তিনি খবর পান যে জলিলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে বকচরার আলমগীরকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রামনগর গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন জানান, তার মেয়ে ময়না বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বেরিয়ে গেলেও শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য বিলকিস পারভিন জানান, আলমগীরের সঙ্গে বালিয়াডাঙার এক মহিলার পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। 

তবে নিহতের বড় ভাই কুমিল্লায় পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত মহিবুল্লাহ মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বালিয়াডাঙা গ্রামের জনৈক আব্দুল জলিলের স্ত্রী ময়না খাতুনের পরকীয়া ছিল। এ নিয়ে বিরোধও হয়েছে কয়েকবার। ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়ার জেরে তার ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক মিনহাজউদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আলমগীরের লাশ বকচরা গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডিশ লাইনের তার গলায় পেঁচিয়ে মুখের সঙ্গে বেঁধে আলমগীরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার কারণ জানার চেষ্টা চলছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আলাউদ্দিনের লাশ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা