kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে শয্যাশায়ী কালাম

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ১৯:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে শয্যাশায়ী কালাম

আবুল কালাম (৫০) পেশায় একজন গাড়িয়াল। মহিষের গাড়িতে করে তিনি মানুষের জমির ফসল ও পণ্য পরিবহন করেন। এতে যেটা আয় হয় তাই দিয়ে তিনি সংসার চালান। নিজের জমিজমা বলতে তেমন নেই। তাই মহিষের গাড়ির আয়ের একটা অংশ দিয়ে অন্যের কিছু জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করেন। এভাবেই তিনি জীবন যুদ্ধ করে তিন কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় দেড় যুগ ধরে সংসার জীবন চালাচ্ছেন। তবে সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও সুখেই দিনাতিপাত করছিলেন তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ করেই বুধবার দিবাগত রাতে আবুল কালামের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম দুটি মহিষ চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পুরো পরিবারের সদস্যদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এ ছাড়া আবুল কালাম নিজেও আর্তনাদ করতে করতে কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। আবুল কালাম পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেড়হাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন কন্যা ও স্ত্রীসহ আবুল কালামের ৫ সদস্যের সংসার। সাংসারিক জীবনের শুরু থেকেই আবুল কালাম বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে মহিষের গাড়ি দিয়ে কৃষকদের জমির ফসল আনা নেওয়ার কাজ করেন। বছরের সব সময় মাঠের ফসল পরিবহনের কাজ থাকে না। তাই অন্য সময়ে তিনি মহিষের গাড়ি দিয়ে এলাকার দুর্গম এলাকায় মানুষের অন্যান্য পণ্য পরিবহনের কাজ করেন। এভাবে তিনি ফসল ও নগদ অর্থ আয় করেন। এই আয় দিয়ে তিন মেয়ের পড়াশোনার খরচসহ সংসার চালান তিনি। তাই গাড়ি বহনের জন্য মহিষ দুইটি তিনি অত্যন্ত আদর যত্নে প্রতিপালন করেন। কিন্তু বুধবার মহিষ দুইটি চুরি হয়ে যাওয়ায় আবুল কালাম হারিয়েছেন তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। এতে আগামী দিনগুলোতে কিভাবে সংসারের খরচ যোগান দিবেন এই দুশ্চিন্তায় বিলাপ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।

আবুল কালাম বলেন, আমি এখন কিভাবে সংসার চালাবো। দুটি মহিষ ছিল আমার একমাত্র সম্বল। সেই সম্বল হারিয়ে গেল।  আবার দুইটা মহিষ কিনতে না পারলে আমি একেবারে পথে বসে যাব। কিন্তু মহিষ কেনার মতো টাকা আমার নাই। এখন সমাজের বিত্তবান মানুষ আমাকে সাহায্য করলে তবেই পরিবার নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে পারবো।

আবুল কালামের বড় মেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া কনা বলেন, আমাদের সংসারের সবকিছু দেখাশোনা করেন বাবা। বাবার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল দুইটি মহিষ। সেই মহিষ চুরি হয়ে যাওয়ায় বাবা এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের স্বপ্ন পড়াশুনা করে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই দুর্ঘটনা এবং বাবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাদের স্বপ্ন পূরণ এখন কঠিন হয়ে পড়ল।

আবুল কালামের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী শাপলা আহমেদ বলেন, মহিষের গাড়ি চালিয়ে তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনোমতে দিন চলছিল গাড়িয়াল আবুল কালামের। কিন্তু এই চুরির ঘটনায় তিন নিঃস্ব হয়ে গেলেন। এ কারণে পুরো পরিবারই এখন মারাত্মক অর্থসংকটে পড়ল। এখন সরকারি ও সামাজিকভাবে তার আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে তিনি দুঃখ-দুর্দশা কাটিয়ে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, আবুল কালাম অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। নিজের জমি জমা না থাকলেও তিনি মহিষের গাড়ি দিয়ে উপার্জন করে সংসারের সবাইকে ভালো রেখেছেন। কিন্তু মহিষ চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সকলেই তার পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি।



সাতদিনের সেরা