kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

ছিন্নমূল-নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে 'ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা'

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ১৮:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিন্নমূল-নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে 'ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা'

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা সংকটের সময়ে পুরো রমজান মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ছিন্নমূল ও নিন্ম আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে 'ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা। ইফতারের পূর্বে প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কের পাশে সারি সারিভাবে বিছিয়ে রাখা হচ্ছে শতাধিক ইফতার প্যাকেট ও বিশুদ্ধ পানির বোতল। যা পেয়ে খুশি রোজাদার নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার পর থেকে মানুষের জীবনযাপন ও আয় রোজগার কমে গিয়েছে। সেই চরম দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রমজানের শুরু থেকেই 'ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা' এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির তরুণ সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যতিক্রমী এই ইফতারের আয়োজন। উদ্দেশ্য করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানষুদের হাতে ইফতার তুলে দিয়ে মুখে সামান্য হাসি ফোটানো।

প্রতিদিন সকাল থেকে চলে ইফতার খাবারের রান্নার কাজ। প্রতিটি প্যাকেটে থাকে ভুনা খিচুরি, মুরগির মাংস ও সবজি। সাথে থাকে এক বোতল বিশুদ্ধ পানি ও একটি ব্যাগ। যিনি রান্নার কাজে দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন প্রতিদিন। রান্না শেষে প্রতিদিন বিকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে এসব ইফতারের প্যাকেট সাজিয়ে রেখে চলেযান সংগঠনটির সদস্যরা। আর ঠিক ইফতারের পূর্বে বিশেষ করে রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের রোজাদার ব্যক্তিরা নিজেরাই গিয়ে তুলে নেন ইফতার প্যাকেট।

রিকশাচালক আব্বাস আলী জানান, করোনায় আয় রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতো স্বল্প রোজগারে পরিবারের খরচ চালানো খুবই কষ্টের হয়ে পড়েছে। তার ওপর এই রমজানে কিছুটা বাড়তি খরচ তো আছেই। রমজানে বিনামূল্যে ইফতার খাবারের প্যাকেট তার খুব উপকারে এসেছে।

থ্রিহুইলার চালক রমজান জানান, এই করোনায় যাত্রী কমে যাওয়ায় তার দৈনন্দীন আয় কমে গিয়েছে। পূর্বে প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া বাবদ মহাজনকে ৪০০ টাকা দিয়েও আরো ৫ থেকে ৬০০ টাকা তার রোজগার রহতো। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে এখন সারাদিনে ৩০০ টাকাও রোজগার হচ্ছে না। এই দু:সময়ে প্রতিদিন ইফতার কিনে খাওয়ার মতো অবস্থা তার নেই। রাস্তার পাশে বিনামূল্যে এই ইফতার তার খুব উপকারে এসেছে।

ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগম জানান, সারা দিনে মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান তা দিয়ে এখন প্রতিদিনের খাওয়া খরচও চলছে না। তাই তিনি প্রতিদিন বিকালে খোঁজ নিয়ে এই ইফতার নিতে চলে আসেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, মহামারি করোনা সবকিছু শেষ করে দিয়েছে আয় রোজগার নেই বললেই চলে। তাই লজ্জা উপেক্ষা করে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি এই প্যাপকেট সংগ্রহ করছেন।

সংগঠনটির সভাপতি মাজেদুর রহমান শুভ জানান, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতেই তাদের এই প্রয়াস। সংগঠনের সকল বন্ধুদের সামান্য সহায়তায় প্রতিদিন ইফতার তৈরি করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলবে শেষ রমজান পর্যন্ত।



সাতদিনের সেরা