kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

বিয়ানীবাজারে ঈদ শপিংয়ে জনস্রোত, সবার মাস্ক থুতনিতে

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ১৭:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিয়ানীবাজারে ঈদ শপিংয়ে জনস্রোত, সবার মাস্ক থুতনিতে

সিলেটের বিয়ানীবাজারে করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিয়ানীবাজারবাসী। এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পছন্দের জিনিস কিনতে। শপিংমল-ফুটপাতে ক্রেতা বিক্রেতা কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

করোনা সংক্রমণরোধে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও বিয়ানীবাজারে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা এখানে। প্রতিদিন প্রচুর লোক সমাগমের কারণে সিলেট-বারইগ্রাম সড়কে প্রচুর যানজট দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার পৌরশহরের বিভিন্ন শপিংমল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে শপিং করতে প্রচুর লোকের সমাগম হয়েছে। শপিং সেন্টারগুলোতে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। কেউ পরছে না মাস্ক। সড়কে ছোট-বড় গণপরিবহণ ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। দুপুর  ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পৌরশহরের প্রধান সড়কসহ কলেজ রোড ও মোকাম রোডে যানবাহনের বিপুল চাপ দেখা গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার গাড়ির চাপ বেশি থাকায় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

পৌরশহরের আল আমিন শপিং কমপ্লেক্স, হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স, জামান প্লাজা ও আজির মার্কেটের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে শপিংমল খোলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মূলত ঈদকে সামনে রেখেই ক্রেতাদের সমাগম বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি রয়েছে। আর লোক সমাগমের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু শপিংমলগুলোর কিছু দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেককেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। আবার অনেককেই মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কিছু মার্কেটের প্রবেশ পথে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখতেও দেখা গেছে।

জামান প্লাজার ব্যবসায়ীরা মুকিত মোহাম্মদ জানান, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এতদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় আমাদের বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ উঠাতে না পারায় এখন ঋণ করে আবার দোকান চালু করতে হযয়েছে। তবে এখন বিক্রি কিছুটা ভালো। ঈদের আগ পর্যন্ত যদি এভাবে চলে তবে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

পৌরশহরের প্রধান প্রধান মার্কেটই নয়, শহরের প্রধান সড়কের পাশ ঘেষে গড়ে উঠা ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় বিক্রেতাদের। কথা হয় ফুট পাতে দোকান নিয়ে বসা সুজন আহমদের সাথে, গত কয়েকদিনে বেচা বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। এতে করে বিগত কয়েকদিনের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক নূর বলেন, বাস্তবতার নিরিখে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও মানুষ দীর্ঘদিন ঘর বন্দি থাকতে চায় না। মানুষের ডিম্যান্ড, প্রয়োজন সবকিছু বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মানুষের প্রয়োজন এবং আবেগের বিষয় দেখার পাশাপাশি উপার্জনের ক্ষেত্রেও সরকারকে খেয়াল রাখতে হয়। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে কেউ যদি বাইরে যান, তাহলেও যেন তারা স্বাস্থ্যবিধিগুলো পরিপূর্ণভাবে মানেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেয়াজ্জেম আলী খান জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কবে শেষ হবে, তা বলা সম্ভব নয়। ফলে ঈদের উৎসব বা চলাফেরায় সবাইকে নিজের নিরাপত্তার জন্যই স্বাস্থ্য সতর্কতাগুলো মেনে চলতে হবে।



সাতদিনের সেরা