kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

পুলিশি পাহারায় ছাড়লেন উপাচার্য ভবন

বিদায়ের দিনেও বিতর্কিত রাবি উপাচার্য

নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

রফিকুল ইসলাম ও রেদওয়ানুল হক   

৬ মে, ২০২১ ২০:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদায়ের দিনেও বিতর্কিত রাবি উপাচার্য

নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতিসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বছরজুড়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান মেয়াদ পূর্ণ করেই পদ ছাড়লেন। তবে বিদায়ের দিনটিতেও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পরেও শেষ দিন শতাধিক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও গত কয়েকদিন থেকে ক্যাম্পাসে নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার (০৬ মে) সংঘর্ষে রূপ নেয়। উদ্ভুত এ পরিস্থিতির জন্য উপাচার্যকেই দায়ী করছেন অনেকেই। শিক্ষকরা বলছেন, উপাচার্যের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজকে সংকটে ফেলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পরেও ১৪১ জনকে এডহকে নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়াও নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ তো রয়েছেই।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্বে এসে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদেও তাই করলেন। ক্যাম্পাসে সব ধরনের নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করে যান তিনি। সর্বশেষ মেয়াদের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে অন্তত ১৪১ জনকে তিনি নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসন ভবনে নিয়োগ সংক্রান্ত ফরম পূরণ করেন। এদের মধ্যে প্রভাষক পদে ৯ জন, সএকশন অফিসার পদে ২৩ জন, সহায়ক কর্মচারী পদে ২৪ জন এবং উচ্চ ও নিম্ন সহকারী পদে ৮৫ জন। উপাচার্যের এমনভাবে নিয়োগ দেওয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জড়িত রয়েছে বলে ধারণা অনেকের।

নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগর ও রাবি ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সোবহানের শেষ কার্যদিবস। এর আগের দিন রাতে উপাচার্য শতাধিক চাকরি প্রত্যাশীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে ক্যাম্পাসে প্রচার হয়। এমন সংবাদে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের চাকরি প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এ সময় রাবির দুই কর্মকর্তাকে মারধর করে মহানগর ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের উপরও হামলা করে তারা। পরে রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষ বাধে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। পরে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে একাধিকবার ফোন করেও তার নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া গেছে।

পুলিশি পাহারায় উপাচার্য ভবন ত্যাগ

পুলিশি পাহারায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান উপাচার্য ভবন ত্যাগ করেন। এ সময় তার গাড়ির সামনে ও পেছনে ৩টি পুলিশের গাড়ি ছিল। উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বিহাসের বাসায় উঠেছেন।

এদিকে, নিয়োগ নিয়ে উপাচার্য ভবন, প্রশাসন ভবনে ছাত্রলীগের তালা ঝোলানো, দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ কর্তৃক গুলি করার হুমকি, উপাচার্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তিকে সংকটে ফেলছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের অনেকেই।

তারা জানান, উপাচার্যের ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কখোনোই সুফল বয়ে আনতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্যাম্পাসের এই পরিস্থিতি দেশের সবাই দেখছে। শেষ মুহূর্তেও নিয়োগ হলো, সংঘর্ষও ঘটলো। এসব ঘটনা নিঃসন্দেহে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একসময় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং জাতি দীর্ঘমেয়াদী অবনমনের দিকে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই ক্যাম্পাসে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আসলেই নিয়োগই এখানে প্রধান ইস্যু কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে ক্যাম্পাসের এসব ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তিকে নিঃসন্দেহে ক্ষুণ্ণ করছে।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আমার নিয়োগ আছে। আমি এর আগেই বাড়ি ছেড়েছি। তবে শত বির্তকের পরেও নিজেকে সফল দাবি করে উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান বলেন, আমি মনে করি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এই চেয়ারটি অনেক চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করতে হয়। এ সময় ১৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি শিকার করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা