kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ে শ্রমিকের মূল্য!

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৬ মে, ২০২১ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ে শ্রমিকের মূল্য!

কয়েক দিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে আসছে মৌসুমি শ্রমিক। এসব শ্রমিক এসেই কাজের সন্ধানে জড়ো হচ্ছে শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর শহরের শহীদ মিনারের আশপাশে। প্রত্যেকের হাতে কাঁচি আর আঁটি বহনের বাইনকে (আঞ্চলিক শব্দ)। প্রতিজনের দৈনিক মজুরি হাঁকেন ৬০০/৭০০ টাকা। এ ছাড়া কয়েক দিন যাবৎ সন্ধ্যা হলেই আকাশে জমে মেঘ। এতে ঝড় আর শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ১০০ থেকে ২০০ টাকা। আবার দুই বেলা খাবার তো আছেই। তবে ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকেরা শ্রমিকদের চড়া মূল্য দিয়েও সন্তোষ্ট।

ধান কাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষানীরাও বসে নেই। ক’দিন যাবত চলছে এ অবস্থা। চলছে বোরো ধান কাটার মহোৎসব। দিগন্ত মঠে সোনালি ধানের সমারোহ যেন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটা দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন বলে আশা করছেন কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার।

আজ বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে কৃষক, শ্রমিক ও কৃষি কর্মকর্তাসহ ধান ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে উঠে আসে এমন তথ্য।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বোরো আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমি। এ ছাড়া রাজস্ব খাতের আওতায় রয়েছে প্রদর্শনী প্লট। রয়েছে ধান, পাট, গম বীজ উৎপাদন প্রকল্পের প্রদর্শনী মাঠ। রয়েছে বোরো বীজ উৎপাদন প্রকল্প।

কৃষকরা জানান, আগে তারা সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কয়েক বছর যাবত ব্যবহার করছেন আধুনিক পদ্ধতি। তাদের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন চাষাবাদে শ্রম, সময় আর ব্যয় কম হয়। উৎপাদন হয় বেশি। এ জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। এতে  দ্রুতই বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। এবার বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ব্যাপক লাভবান হবেন কৃষকরা। কৃষি ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে কৃষকদের।

কৃষক ইন্তেজ আলী বলেন, আমি ১০ একর জমি বোরো করছি। খুব ভালো হইছে। প্রতি কাঠায় ফলন হইতাছে সাড়ে ৩ মণ।

একই কথা শোনান পোড়াগড় গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বিআর ২৮, বিআর-২৬, বিআর ২৯ ও তেজগোল্ডসহ উফসি জাতের সকল ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে শ্রমিক পাওয়া খুব কঠিন। প্রতিজন শ্রমিক মজুরি নিচ্ছে ৬০০ টাকা হতে ৭০০ টাকা।

সানন্দবাড়ী থেকে আসা শরিফুল হক, কাওছার, শামছুল হক, মজিবর রহমানসহ অনেকে বলেন, আমরা বোরো মৌসুমে ধান কাটতে আহি। এডা পরিশ্রমের কাম। এর লাইগা দামও একটু বেশি নেই।

ধান ব্যবসায়ী বিপ্লব মিয়া বলেন, সীমান্ত এলাকায় কাচা ধান ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে ৮০০ হতে ৮৫০ টাকা। তবে কয়েকদিন পর দাম আরো বাড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পর্যবেক্ষণ আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের মাত্রা। এবার বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছে। এর সুফল পেয়ে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে আরো গতিশীল হয়েছে। তবে বহিরাগত শ্রমিকের পাশাপাশি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। এতে দ্রুতই ধান কেটে ঘরে তুলবেন কৃষকরা। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও সচেতন মানুষরা। 



সাতদিনের সেরা